১৭ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার ২০০৯ সালের চাঞ্চল্যকর জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জসিমকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। প্রায় ১৭ বছর ধরে পলাতক থাকার পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর এলাকায় র‍্যাব-৬ ও র‍্যাব-৭-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার জসিম (৫০) খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার হাজী তমুজ উদ্দিন সড়ক বাইলেন এলাকার হোসেন আলীর ছেলে।

র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে র‍্যাব-৬ ও র‍্যাব-৭-এর যৌথ দল সীতাকুণ্ড থানার সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জসিমকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে জসিম নিহত জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। পেশায় তিনি রিকশাচালক ছিলেন। জাহাঙ্গীরের বাড়ির পাশের একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করতেন রবিউল ইসলাম। ওই বছরের মে মাসের শুরুর দিকে দোকান থেকে রবিউলের একটি মুঠোফোন হারিয়ে যায়। মুঠোফোনটি খুঁজে দেওয়ার কথা বলে ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগে রবিউলের কাছ থেকে ৮০০ টাকা নেন জসিম। কিন্তু পরে মুঠোফোন ও টাকা কোনোটিই ফেরত দেননি তিনি।

এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের কাছে অভিযোগ করেন রবিউল। ২০০৯ সালের ১৯ মে সকালে স্থানীয় ব্যক্তিরা জসিম ও রবিউলকে নিয়ে সালিসে বসেন। সেখানে জসিমই মুঠোফোনটি চুরি করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। সালিসকারীরা তাকে মুঠোফোন ও ৮০০ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই সালিসে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরও। পরে জাহাঙ্গীর জসিমকে ওই মাসের মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই দিন বিকালে বাড়ির সামনে রবিউলের বন্ধ দোকানের একটি বেঞ্চে বসেছিলেন জাহাঙ্গীর। এ সময় পেছন থেকে ছুরি দিয়ে তার ঘাড়ের বাঁ পাশে আঘাত করে পালিয়ে যান জসিম। পরে স্থানীয়রা জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরের বড় ভাই আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে জসিমকে আসামি করে সোনাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে আদালত জসিমকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।