রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার নির্দেশ

খুলনা নগরের যশোর রোডে রেলস্টেশনের দেয়ালে কালি দিয়ে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি বিকৃত করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। 

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বিকৃত করা দেয়াল চিত্রটি পরিদর্শন শেষে তিনি এই কর্মকাণ্ডকে ‘অসম্মানজনক ও বিদ্বেষমূলক’ বলে আখ্যা দেন। সেখানে আবারও রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি আঁকার ঘোষণাও দেন। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে পুলিশ কাজ শুরু করেছে বলেও জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, বিকৃত করা ছবিটিকে নতুনভাবে আঁকার উদ্যোগ নিয়েছে কেসিসি।

কেসিসি প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর খুলনা আগমন উপলক্ষে আমরা দেয়ালে খুলনার অতীত ঐতিহ্য, উন্নয়ন ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি এঁকেছি। এর মধ্যে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি প্রতিকৃতিও ছিল। কিন্তু সেই ছবিতে কালি দেওয়ার ঘটনাকে আমাদের কাছে হিংস্রতা বলে মনে হয়েছে। এটি বিশ্ববরেণ্য কবির প্রতি অসম্মান। এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। একটি ছবি মুছে দিয়ে একজন মানুষকে অস্বীকার করার কোনও সুযোগ নেই। আমরা স্বচ্ছ ও সুন্দর খুলনা গড়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু এই ঘটনা ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।’

প্রতিকৃতিতে কালি লেপনের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিয়েও কথা বলেন কেসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘যারা এই কাজ করেছে, তাদের খুঁজে বের করার জন্য আমরা পুলিশকে বলেছি। আমরা চাই এ ধরনের কাজে আর কেউ অংশ না নিক। দেয়ালচিত্রগুলো যাতে অক্ষত থাকে, সে জন্য পুলিশ টহল জোরদার করবে।’

শুক্রবার দুপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির মুখ কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে। প্রতিকৃতির দুই পাশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা’ শিরোনামে দুটি পোস্টারও লাগানো হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি লেপনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা।

এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ওই ঘটনার তদন্ত করছি। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’