ত্রাণের তালিকা তৈরি নিয়ে সংঘর্ষ, দুই সাংবাদিকসহ আহত ২০

ক্যামেরাপারসনকে মারধর ও ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়জামালপুরে ত্রাণের তালিকা তৈরি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সময় টিভি ও ইন্ডিপেনন্ডেন্ট টিভির ক্যামেরাপারসনসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। জেলা শহরের শাহপুর এলাকায় শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেমুজ্জামান এ তথ্য জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ত্রাণের পণ্য বিতরণের তালিকা তৈরিকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন সেতুর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। বিরোধের জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় দু'পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দু'পক্ষ সংর্ঘষে লিপ্ত হয়। সংর্ঘষে ১৮ জন আহত হন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিন রাউন্ড ফাকা গুলি চালায়।

এলাকাবাসী জানান, সংঘর্ষের সময় হেলাল কাউন্সিলরের ছেলে অন্তরের নেতৃত্বে সময় টিভির ক্যামেরাপারসন আবুল কালাম আজাদ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ক্যামেরাপারসন আল-আমিনকে মারধর করে তাদের ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। গুরুতর আহত আবুল কালাম আজাদকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির ক্যামেরাপারসন আল আমিন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্মস্থলে ফিরে গেছেন।

আহত মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ত্রাণের স্লিপে হেলাল কমিশনার অনেক দিন ধরে নিজের আত্মীয়-স্বজনদের নাম দিয়ে দুর্ণীতি করে আসছেন। এছাড়া ত্রাণের তালিকায় গরিব দুঃখীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য টাকাও নিয়েছেন তিনি। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে হেলাল কমিশনার ও তার দলবল তাকে মারধর করে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর হেলাল জানান, কেন এই ঘটনা ঘটলো তা তিনি জানেন না। আর ঘটনার সময় কয়েকশ' লোক থাকায় কে বা কারা ক্যামেরাপারসনদের মারধর করেছে তাও তিনি জানেন না।

ওসি সালেমুজ্জামান জানান, ক্যামেরাপারসনদের মারধর ও ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনাসহ আলাদা তিনটি মামলা দায়েরের প্রস্ততি চলছে। মামলা দায়েরের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।