বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে টাকা আদায়কারী চক্রের মুল হোতা মাওলানা মো. আনিছুর রহামান সংযোগ গ্রহণকারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, গ্রামের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি টাকা উত্তোলন করে ঠিকাদার ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের দিয়েছেন।
তবে দালাল চক্রের মাধ্যমে এলাকাবাসীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বকশীগঞ্জ জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আক্তারুজ্জামান।
জানা গেছে, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ মোয়ামারী গ্রামে প্রায় ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় পৌনে ৪ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এই লাইনের মাধ্যমে ১৭০ জন আবাসিক গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করার প্রস্তুতি নেয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।
অভিযোগ রয়েছে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বকশীগঞ্জ অঞ্চলের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও লাইন নির্মাণের ঠিকাদার রনি এলাকার একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতিটি আবাসিক গ্রাহককে সংযোগ দেওয়ার নামে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা করে ২৫০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ওই চক্রটি পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় এলাকাবাসীর পক্ষে জামালপুরের জেলা প্রশাসক ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর অভিযোগ দায়ের করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ মোয়ামারী গ্রামে প্রতিটি সংযোগ দিতে গ্রাহকদের কাছ থেকে ৪ থেকে ৫ হাজার করে টাকা নিয়েছে ওই এলাকার মাতাব্বর মাওলানা মো. আনিছুর রহমান।
এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আব্দুল মান্নান, ফেরদৌস, বাবুল, আমির হোসেন রহিম, সৈয়দ আলী রশিদসহ শতাধিক ব্যক্তি বলেন, অনেক দিন হয় টাকা নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সংযোগ পাননি তারা। পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারকে টাকা দিয়েছেন। এখন আবারও টাকা দাবি করছেন তারা।
এদিকে বিদ্যুৎ সংযোগের নামে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করায় তড়িগড়ি সীমিত আকারে সংযোগ দেওয়ার পায়তারা করছে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জ জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে এলাকাবাসী বা গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, অনেক দিন আগেই এই বিদ্যুৎ লাইনের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এলাকায় দ্বন্দ্বের কারণে গ্রাহকদের সংযোগ দেওয়া যায়নি। আর সংযোগ দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তড়িগড়ি করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে আগে থেকে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।