যানবাহনে ব্যহৃত জ্বালানি তেল ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে শনিবারও (৬ নভেম্বর) সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট চলছে। ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে ময়মনসিংহের যাত্রীদের প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিকল্প যানে বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে। এ জন্য তাদের গুনতে হয়েছে চার গুণ বেশি ভাড়া, পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি।
সকালে ময়মনসিংহ বাইপাস মোড়ে সরেজমিনে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এমনকি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় উঠে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই সুযোগে এসব যানের চালকরা চার গুণ ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন।
গাজীপুরের সাফারি পার্ক সংলগ্ন বাঘের বাজার হাইস্কুলের শিক্ষক লাভলু মিয়া গত বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) গ্রামের বাড়ি জামালপুর এসেছিলেন। স্কুল খুলে যাওয়ায় জামালপুর থেকে গাজীপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে জামালপুর থেকে ময়মনসিংহ বাইপাস মোড়ে পৌঁছান তিনশ' টাকা দিয়ে। পরে বাইপাস মোড় থেকে মাইক্রোবাসে করে গাজীপুর বাঘের বাজার এলাকায় যেতে তাকে গুনতে হয় ৬০০ টাকা। এই হিসেবে জামালপুর গ্রামের বাড়ি থেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে শিক্ষক লাভলু মিয়ার গুনতে হচ্ছে ৯০০ টাকা। স্বাভাবিক সময়ে ২০০ থেকে আড়াইশ’ টাকায় গাজীপুর বাঘের বাজার পৌঁছান তিনি।
শিক্ষক লাভলু মিয়া বলেন, স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে বাড়ি আসি। তবে বাড়ি আসার পর জানতে পারি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পরিবহন মালিকরা ধর্মঘট ডেকেছেন। এখন স্কুল খুলে যাওয়ায় কয়েক গুণ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছি। এই সমস্যা সব যাত্রীদের জানান লাভলু মিয়া।
আশুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল বিথী আক্তার ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় এসেছিলেন। ছুটি শেষে পরিবহন ধর্মঘট থাকায় ময়মনসিংহ বাইপাস মোড় থেকে মাইক্রোবাসে করে ৭০০ টাকা ভাড়া দিয়ে চৌরাস্তা পর্যন্ত যাচ্ছেন। এরপর আশুলিয়া পর্যন্ত কীভাবে যাবেন এটা নিয়ে চিন্তিত বিথী আক্তার।
বিথী বলেন, ছুটি শেষ হওয়ায় বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া গুনে কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষকে অমানবিক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, দ্রুতই সমস্যা সমাধান করা উচিত।
পরিবহন ধর্মঘটে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পেরে খুশি প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা।
মাইক্রোবাস চালক আবুল কাশেম জানান, অন্য সময় তেমন একটা যাত্রী পাওয়া যায় না। পরিবহন ধর্মঘটের কারণে যাত্রীর চাপ ব্যাপক। একটু বেশি ভাড়া নিয়েই যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছি। এখন প্রতিদিন ঢাকার মহাখালীতে চারবার আসা যাওয়া করতে পারছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়বে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ওপর। বাসের ভাড়া বাড়ানো হলে সাধারণ যাত্রীদের জন্য তা হবে কষ্টদায়ক। এ অবস্থায় ডিজেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছেন তারা