নেত্রকোনায় এ বছর ৪৬৫টি পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি শেষের পথে। এরই মধ্যে জেলার প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি শেষে এখন চলছে রঙের কাজ। পাশাপাশি বর্ণিল সাজে সাজানো হচ্ছে প্রতিটি পূজামণ্ডপসহ আশপাশ এলাকা। সব মিলিয়ে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পী ও আয়োজকরা। এদিকে, সর্বজনীন এ উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে তৎপর প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর নেত্রকোনায় কমেছে পূজামণ্ডপের সংখ্যা। গেলো বছর জেলায় ৫৬০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব হলেও এ বছর ৯৫টি মণ্ডপে তা হচ্ছে না। এসব মণ্ডপে পূজা আয়োজন না করার কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক বন্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আয়োজকদের আর্থিক অসংগতিকেই চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর যারা পূজার আয়োজন করেছেন, তাদের মধ্যে অনেককেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমাশিল্পী ও শ্রমিকদের পারিশ্রমিকসহ পূজার যাবতীয় উপকরণসামগ্রীর মূল্য অনেকটা বেশি থাকায় ব্যয় বেড়েছে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ৫৬০টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব হলেও এ বছর ৯৫টি কমে মোট ৪৬৫টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলার পৌর শহরে ৫৪টি, সদর উপজেলায় ৫১টি, বারহাট্টা উপজেলায় ৪৮টি, কেন্দুয়া উপজেলায় ৩৬টি, আটপাড়া উপজেলায় ৩৮টি, কলমাকান্দা উপজেলায় ৪৯টি, দুর্গাপুর উপজেলায় ৬৩টি, পূর্বধলা উপজেলায় ৪৮টি, মোহনগঞ্জ উপজেলায় ৩৪টি, মদন উপজেলায় ১২টি ও খালিয়াজুরী উপজেলায় ৩২টি মণ্ডপ রয়েছে।
জেলার কেন্দুয়া পৌর শহরের সাউদপাড়া বর্মণপাড়া এলাকার বাসিন্দা নগরবাসী নামে এক যুবক বলেন, ‘আমরা প্রতিবছরই শারদীয় দুর্গোৎসব করতাম। কিন্তু আমাদের সকলেরই আর্থিকভাবে তেমন সচ্ছলতা না থাকায় এবং ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ায় এবার আর পূজামণ্ডপ করিনি।’
কেন্দুয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সজল কুমার সরকার বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় এ বছর বেশ কয়েকটি মণ্ডপ কমেছে। এবার ৩৬টি মণ্ডপে হবে দুর্গোৎসব। এরই মধ্যে আমাদের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিতে প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে।’
নেত্রকোনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন পণ্ডিত বলেন, ‘জেলায় এ বছর ৪৬৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে গত বছর মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৫৬০টি। ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক বন্যা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মিলিয়ে অনেকেই এ বছর পূজার জন্য বাজেট কমিয়ে দিয়েছেন।’
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার (এসপি) মির্জা সায়েম মাহমুদ জানান, দুর্গোৎসবে নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি হিসেবে প্রত্যেকটি মণ্ডপেই সিসিটিভির ব্যবহার নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও থাকবে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও নিরাপত্তারক্ষী। পুলিশের পক্ষ থেকে মোবাইল পার্টি, স্ট্যান্ডিং ডিউটি ও ক্লাস্টার বেসিসে পর্যাপ্ত ফোর্স নিয়োগ করা থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তাসংক্রান্ত অন্যান্য বাহিনীগুলোও সক্রিয় থাকবে বলে জানান তিনি।