ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় চুরির অপবাদে বিএনপি নেতার কার্যালয়ে এক যুবককে পেটানোর সময় বাধা দিতে গিয়ে হামলায় নবী হোসেন (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৬ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে পাগলা থানার উস্থি ইউনিয়নের হাটপাড়া গ্রামের বাদল মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নবী হোসেন হাটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। যে নেতার কার্যালয়ে সালিসের নামে যুবককে পেটানো হয়েছে, তার নাম শামছুল ইসলাম ফারুক। তিনি উপজেলার পাগলা থানা বিএনপির সাবেক সদস্য ও স্থানীয় উস্থি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী। এর আগে গত বছর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তা প্রত্যাহার করা হয়।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাসখানেক আগে একই গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে রবিন মিয়ার একটি মোবাইল চুরি হয়। সেই চুরির অভিযোগ আনা হয় নিহত নবী হোসেনের নাতি মো. রানার (২০) বিরুদ্ধে। তিন দিন আগে এলাকায় ফেরেন রানা। রবিবার সন্ধ্যার পর তাকে ধরে হাটপাড়া গ্রামের বাদল মার্কেট এলাকায় বিএনপি নেতা শামছুল ইসলামের কার্যালয়ের সামনে নিয়ে বেঁধে রাখা হয়।
সেখানে শামছুলের নেতৃত্বে সালিশ বসিয়ে রানাকে মারধর শুরু হয়। একপর্যায়ে খবর পেয়ে রানার দাদা নবী হোসেন সেখানে গিয়ে নাতিকে মারধর করতে নিষেধ করলে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়। নবী হোসেন সড়কে পড়ে গেলে তার বুকে কয়েকটি কিল-ঘুষি মারা হয়। পরে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসক তাকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে বলেন। স্বজনরা রাত ১০টার দিকে তাকে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল জড়িতদের ধরতে রাতেই এলাকায় অভিযানে যান। কিন্তু সবাই পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেননি। লাশ উদ্ধারের পর আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা শামছুল ইসলামের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থীর কার্যালয়ের সামনে নিয়ে মো. রানাকে বেঁধে মারধর করা হয়। এ সময় তার দাদা গিয়ে বলেন, ‘এভাবে আস্তে আস্তে না মাইরা, একবারে মাইরা ফালাও।’ এই কথা বলতেই তারা বৃদ্ধের ওপর চড়াও হন। পরে ধাক্কাধাক্কি ও ঘুষিতে আহত হলে বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ওই বিএনপি নেতাসহ জড়িত অন্যদের ধরতে আমরা অভিযানে যাই, কিন্তু সবাই পালিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’