পটুয়াখালীর বাউফলে ফ্যামিলি কার্ড তথ্যসংগ্রহকারী (সুপারভাইজার) নিয়োগের এমসিকিউ পরীক্ষার হলে বিএনপির সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে রায়হান তালুকদার আকাশ তালুকদারের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় সাবেক এমপির ছেলের কেন্দ্রে ঢোকাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বাউফল উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা চলাকালে আকাশ তালুকদার মোবাইল হাতে প্রায় ৩০ মিনিট পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করেন। তাদের দাবি, একজন বহিরাগত হিসেবে পরীক্ষার হলে তার উপস্থিতি এবং মোবাইল বহন করা সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগটি সরকারিভাবে দেওয়া হচ্ছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সমাজসেবা অধিদফতর এই অস্থায়ী শুমারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটি সমাজসেবা অধিদফতর পরিচালিত ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ এর আওতায় একটি নির্ধারিত সময়ের (৪৫ দিন) জন্য সরকারি প্রকল্পের কাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ পরীক্ষার কক্ষে এক পক্ষে ছিলেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে আকাশ তালুকদার ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের অনুসারীরা। অন্য পক্ষে ছিলেন বাউফল পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব সাদিকুজ্জামান রাকিবের অনুসারীরা।
উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনটি পদে ১ হাজার ১৫৫ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বাউফল সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কক্ষে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৪০ নম্বরের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছিল বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ)।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে আকাশ তালুকদার ও আবদুল্লাহ আল ফাহাদ পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য মোবাইল নিয়ে কক্ষের মধ্যে অবস্থান করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করেন সাদিকুজ্জামান রাকিব। সাদিকুজ্জামানের ভাই ওই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিলেন। এ নিয়ে পরীক্ষার পর কেন্দ্রের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
পরীক্ষার্থী জসিম উদ্দীন অন্তু বলেন, ‘পরীক্ষার হলে বহিরাগত ব্যক্তির উপস্থিতি আমাদের হতবাক করেছে। এর ওপর মোবাইল ফোন হাতে আকাশ তালুকদার প্রায় পুরো সময় পরীক্ষার হলে ছিলেন, যা পরীক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ পরীক্ষার হলের বাইরে থেকে ভিডিও ধারণ করেছেন। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।’
ছাত্রদল নেতা সাদিকুজ্জামান অভিযোগ করেন, আকাশ তালুকদার ও আবদুল্লাহ আল ফাহাদ নিয়োগ পরীক্ষায় অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তার করেছেন। এর প্রতিবাদ করায় আমার ওপর হামলা করা হয়েছে।
তবে আকাশ তালুকদার বলেছেন, ‘পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করার জন্য গিয়েছিলাম।’ আর আবদুল্লাহ আল ফাহাদের দাবি, পরীক্ষার সময় তিনি ও আকাশ পরীক্ষার কক্ষে ছিলেন না। হামলার অভিযোগ সত্য নয়। পরীক্ষা ও সরকারকে বিতর্কিত করার জন্য একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তবে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষার শেষের দিকে কক্ষের মধ্যে আকাশ তালুকদার ঢুকেছেন। তাকে নিষেধ করলে তিনি বলেন, কোনও সমস্যা হবে না।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘অবৈধভাবে কারও পরীক্ষার কক্ষে থাকার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









