ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে তার মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বাড়িটিতে হামলা চালিয়ে টিনের বেড়া ও চাল ভাঙচুর করেছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পরদিন শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, মামলায় পাঁচ জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলো- গফরগাঁওয়ের শরীফ (২৩), তার ভাই আরিফ (২১), ফাহিম (২২), রাজীব (২৩) ও এনামুল (২২)। ঘটনার রাতেই অভিযান চালিয়ে রাজীবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাকি আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মামলার প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে যান। এ সময় তারা বসতঘরের টিনের বেড়া ও চাল ভাঙচুর করেন। পরে টিনগুলো খুলে বাড়ির পাশে স্তূপ করে রাখা হয়। এর আগে আসামিদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘরের মালামালও সরিয়ে রাখা হয়। ঘটনার বিচার ও পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে গত রবিবার ও সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন বৈঠকও করেন। কিন্তু সেখানেও কোনও সমাধান হয়নি।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গফরগাঁওয়ের ওই ভুক্তভোগী নারীর স্বামী প্রবাসী। গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পানি ও কুড়াল চেয়ে ওই বাড়ির দরজা খুলতে বলে অভিযুক্ত পাঁচ জন। ওই নারীর ছেলে পানি নিয়ে দরজার কাছে এলে তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। এরপর ঘরে ঢুকে ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে টাকাও দাবি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান শেখ বলেন, ‘প্রধান আসামির বাড়ি ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অন্য আসামিদের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিতে এলাকাবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।’