বিএনপিকে ভোট দিয়ে অনুশোচনা করে কারাগারে যাওয়া সাথী এবার যা বললেন

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পর এবার বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, হুমকি ও দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছেন নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার। তার ছেলে জুনায়েদের দাবি, চাঁদা দাবির কথোপকথন মোবাইল ফোনে রেকর্ড হয়ে যাওয়ায় তার মায়ের কাছ থেকে ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়।

গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান সাথী আক্তার। বুধবার (২৮ অক্টোবর) আদালত তাকে ৫০০ টাকার মুচলেকায় নিজ জিম্মায় জামিন দেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ। মামলার পরবর্তী তারিখ ৩ নভেম্বর।

সাথী আক্তার ভালুকার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেসে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তার ভাষ্য, প্রায় ১৪ বছর ধরে তিনি ব্যবসা করছেন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানে একাধিক চুরির ঘটনায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তিনটি শোরুমের এসির তার ও বিদ্যুতের মিটার থেকে তার কেটে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব ঘটনার ক্ষোভ থেকে ২৫ অক্টোবর ফেসবুক লাইভে এসে নিজের কষ্ট ও নিরাপত্তাহীনতার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সাথী আক্তারের অভিযোগ, লাইভের পর স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী তার প্রতিষ্ঠানের সামনে এসে তাকে গালাগাল ও মারধর করেন। এ সময় তার মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তি জড়িত ছিলেন।

সাথীর ছেলে মো. জুনায়েদ বলেন, আম্মুর দোকানে দীর্ঘদিন ধরে চুরি হচ্ছিল। একপর্যায়ে রাগের মাথায় তিনি ফেসবুক লাইভে কিছু কথা বলেন। এরপর কয়েকজন নেতা এসে ঝামেলা করেন। তারা দেড় লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় এবং মোবাইলে কথোপকথন রেকর্ড হয়ে যাওয়ায় ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার পর তার মাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সাথী আক্তার বলেন, বিএনপির দুঃসময়ে দলটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে ভূমিকা রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে দলের কোনও আনুষ্ঠানিক পদে ছিলেন না বলে দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, আমি এই দলকে ভালোবাসি। দলের দুঃসময়ে যখন অনেকে ভয়ে কথা বলতো না, তখন আমি নেত্রীর জন্য আন্দোলনে ছিলাম। আজ সেই দলের নেতাকর্মীদের হাতেই আমাকে অপদস্থ হতে হয়েছে। আমি শুধু আমার মনের কষ্ট প্রকাশ করেছি।

তার ফেসবুক কার্যক্রমেও স্থানীয় বিএনপি নেতার প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ‘সাথী মেকওভার’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদের ছবিসংবলিত একটি কার্ড পোস্ট করা হয়েছিল।

সাথী আক্তারের আইনজীবী মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাথী একজন নারী উদ্যোক্তা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বারবার চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ফেসবুক লাইভে নিজের মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃত। সাথীকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে পুলিশ তাকেই গ্রেফতার করেছে।

আইনজীবী জানান, ২৫ অক্টোবরের একটি সাধারণ ডায়েরির সূত্রে সাথী আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আদালতে শুনানির সময় পুলিশ প্রতিবেদনে আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কার পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ঘাটতি তুলে ধরা হয়। পরে আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ময়মনসিংহ কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মোস্তাছিনুর রহমান জানান, ভালুকা থানা পুলিশ ২৬ অক্টোবর সাথী আক্তারকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। মঙ্গলবার আদালত তাকে নিজ জিম্মায় ৫০০ টাকার মুচলেকায় জামিন দেন। পরবর্তী তারিখে পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করবেন।

এর আগে ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভে সরকারবিরোধী কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে লাইভকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়।