নাটোরের গুরুদাসপুরে নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের জানাজার পরপরই এক প্রবাসীর মালিকানাধীন শপিংমলে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজারে রাশ মেগা মলে এ ঘটনা ঘটে।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মিছিলে অংশ নেওয়া লোকজনই শপিংমলে হামলা করেন। দলীয়ভাবে পরিচিতি না থাকলেও কিছু লোক মালামাল লুটের জন্যই হামলায় অংশ নেন। তারা লুট করা মালামাল মাথায় করে, রিকশা-ভ্যানে করে বিনা বাধায় নিয়ে যেতে থাকেন।
শপিংমলটির স্বত্বাধিকারী যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রাসেল হোসাইন। শাকিল হত্যা মামলায় গ্রেফতার নাটোর-৪ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামানের সঙ্গে রাসেলের ঘনিষ্ঠতা আছে। এর জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামকে ১৪ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সোমবার রাতে মৃত্যু হয়।
শাকিল হত্যার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের ছেলে নূরুজ্জামানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ সোমবার রাতেই তাকে আটক করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঢাকায় জানাজা শেষে মঙ্গলবার রাতে শাকিলের মরদেহ গুরুদাসপুরে আনা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা শেষে মাইকিং করে উপস্থিত লোকজনকে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। ২০০ থেকে ২৫০ জন বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে চাঁচকৈড় বাজারে যান। সেখানে তারা নূরুজ্জামানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত প্রবাসী ব্যবসায়ী রাসেল হোসাইনের রাশ মেগা মলে হামলা করেন। দোকানের শাটার ভেঙে শত শত লোক মলের তৈরি পোশাক, প্রসাধনী ও জুতা-স্যান্ডেলের দোকানে লুটপাট করেন। পরে মলটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে লুটপাট চলার পর পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়।
শপিংমলের মালিক রাসেল হোসাইনের অভিযোগ, শুরু থেকেই একটি মহল শপিংমলটি বন্ধ করার পাঁয়তারা করছিল। শাকিল হত্যার ইস্যুকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টি করে তার প্রতিষ্ঠানে লুটপাট ও ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করেন।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতে খায়ের আলম বলেছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় পুলিশ এখনও কোনও অভিযোগ পায়নি।
জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার বলেন, কিছু সুযোগসন্ধানী লোক মব সৃষ্টি করে একজন প্রবাসীর ক্ষতিসাধন করেছেন। পুলিশকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
নেতার জানাজার পরপরই মিছিল নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-লুটপাট
হত্যার হুমকি পেয়ে ছেলে থানায় জিডি করেছিল, বাঁচাতে পারেনি পুলিশ: শাকিলের বাবা