উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগে জানা গেছে, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের সিরাজনগর গ্রামের মৃত সুবোল চন্দ্র সরকারের ছেলে বিপ্লব কুমার ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর কল্যাণী উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ‘কৃষ্ণকুমার’ নামে তার একটি ফেসবুক আইডি আছে। সেখানে তিনি মহানবী (সা.) সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্য করেন। গত ২৯ মে স্কুলের নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম ও জোবায়ের আহমেদ এটি দেখে। তাদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রচার হলে স্থানীয় মুসলমানদের মাঝে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরদিন সোমবার বেলা ১০টার দিকে এলাকাবাসী স্কুল চত্বরে সমবেত হন এবং শিক্ষক বিপ্লব কুমারের বিচার দাবি করেন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম সরোয়ার জাহান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এবং শেরপুর থানার ওসি খান মো. এরফান ঘটনাস্থলে যান। ম্যানেজিং কমিটি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি সভায় প্রধান শিক্ষক সুবেদ কুমার পালের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষক বিপ্লব কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এছাড়া ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নজরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধি বাশির উদ্দিন বিশ্বাস ও স্থানীয় কল্যাণী বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি আমিনুল ইসলাম মণ্ডল। সাত কর্মদিবসের মধ্যে এ কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক সুদেব কুমার পাল জানান, এমএসসি পাশ সহকারী শিক্ষক বিপ্লবের বিরুদ্ধে অতীতে এমন কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি। শিক্ষকদের মধ্যে কোনও গ্রুপিং বা কারও সঙ্গে তার শত্রুতা নেই। তাই তিনি যা করেছেন, নিজ দায়িত্বে করেছেন।
তবে প্রধান শিক্ষক আরও জানান, ‘শিক্ষক বিপ্লব কুমার তাকে জানিয়েছেন, তিনি শুধু ওই পেজের লেখায় লাইক দিয়েছেন; কিছু লেখেননি।’
শেরপুর থানার ওসি জানান, ওই শিক্ষক ‘বাংলাদেশ হিন্দু বীর যুব সংঘ’ পেজের একজন অনুসারী (ফলোয়ার)। ওই পেজের মাধ্যমে তার আইডিতে আসা মহানবী (সা.)-কে কটাক্ষ করে লেখায় তিনি (শিক্ষক) লাইক দিয়েছেন।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পেলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তারপর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পর থেকে শিক্ষক বিপ্লব কুমারের ফেসবুক পেজ ‘কৃষ্ণকুমার’ ব্লক। পেজের একটি ফটোকপিতে দেখা গেছে, শিক্ষক ওই লেখাতে লাইক দিয়েছেন। তিনিও বলেন, তদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: খুলনায় প্রতিমাসে পাঁচ এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত
/বিটি/টিএন/আপ-এআর/