অনুসন্ধানে জানা গেছে, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার চার্জশিট আদালতে গৃহীত হওয়ায় গত ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সাময়িক বরখাস্ত করে। তৎকালীন সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সোহরাব আলী (প্যানেল চেয়ারম্যান-১) অনুপস্থিত থাকায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান (প্যানেল চেয়ারম্যান-২) ইয়াসমিন আরা বেগমকে চেয়ারম্যানের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। কিন্তু মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পরিষদের পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকায় তিনিও উপজেলা পরিষদ আইন এর ১৯৯৮ এর ১৩(১) (ক) ধারা অনুযায়ী অপসারিত হন। পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় ওই আইনের ১৫(৪) ধারা অনুযায়ী পরিষদের সদস্যদের মধ্য থেকে নতুন প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা হলে ওই সময়ে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণের জন্য সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
অন্যদিকে, উপজেলা চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানকে পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক কাজের ক্ষমতা প্রদান আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত ২০১৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের অর্পিত আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন।
এদিকে, স্থগিত আদেশের পরও মোখলেসুর রহমান এখন পর্যন্ত উপজেলা পরিষদে অনুপস্থিত রয়েছেন। একটি সূত্র মতে, তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার গ্রেফতার এড়াতে তিনি উপজেলা পরিষদে অনুপস্থিত রয়েছেন।
আর সাময়িক বরখাস্তকৃত ভাইস চেয়ারম্যান সোহরাব আলী তার বরখাস্তের বিরুদ্ধে রিট করলে আদালত ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। কিন্তু স্থগিত আদেশের পরও তিনি এখন পর্যন্ত অনুপস্থিত রয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের এডিপি’র বাস্তবায়নকৃত প্রকল্পের চেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলিত হয়ে আসছে। কিন্তু গত সাত মাস ধরে চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় পরিষদের সকল কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্প (এডিপি) ও রাজস্ব খাতের আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষে ঠিকাদারদের প্রায় এক কোটি টাকার বিল আটকে গেছে। ঠিকাদাররা বিলের জন্য প্রতিদিন উপজেলা পরিষদে ধর্ণা দিলেও এর সুরাহা হচ্ছে না। এমনকি চলতি জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে বিল উত্তোলন না করলে বরাদ্দকৃত টাকা মন্ত্রণালয়ে ফেরত যাবে বলে উপজেলা প্রকৌশলী আ.ন.ম ওয়াহেদুজ্জামান জানান।
একই কারণে বাংলা ১৪২৩ সালের হাটবাজার ও ফেরিঘাটের ইজারা না হওয়ায় পরিষদে চলছে আর্থিক অস্থিরতা। একইভাবে টিআর ও কাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা পরিষদে নিয়োগ পাওয়া পাঁচ কর্মচারীর বেতন সাত মাস ধরে বন্ধ থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এমনকি পরিষদের নতুন বাজেট প্রনয়ণও অনুমোদনের জন্য আটকে আছে।
ঠিকাদার মাসুদুল আলম জানান, গত সাত মাস ধরে এডিপি ও রাজস্ব খাতের ২টি প্রকল্পের কাজ শেষে বিলের জন্য পরিষদে ধর্ণা দিচ্ছেন।
দেবীনগর ইউপি চেয়ারম্যান আ.ক.ম শাহেদুল আলম বিশ্বাস জানান, উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রম্তসহ গ্রামীন অবকাঠোমো প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। দ্রুত এর সমাধান করে উপজেলাবাসীর উন্নয়নকে তরান্বিত করার দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মির্জা শাকিলা দিল হাছিন জানান, উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির কারণে সমস্যা সমাধানে নির্দেশনা চেয়ে গত ৯ মে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি চিঠি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন-
না. গঞ্জে আ.লীগ অফিসে বোমা হামলার ১৫ বছর: বিচার চলছে ধীর গতিতে
জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলবে, বাড়ছে না বিশেষ অভিযানের মেয়াদ
/বিটি/টিএন/