সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মুষ্টিমেয় জঙ্গিদের নির্মূল করা হবে: র‌্যাব মহাপরিচালক

বেনজির আহমেদ (ফাইল ছবি)র‌্যাবের ডিজি বেনজীর আহমেদ বিপিএম বলেছেন, দেশের সকল মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মুষ্টিমেয় জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হবে। সোমবার বিকালে তিনি বগুড়া ও জামালপুর জেলার সীমান্ত এলাকা বগুড়ার সারিয়াকান্দির কাজলা ইউনিয়নের দক্ষিণ টেংরাকুরা আশ্রায়ন প্রকল্প মাঠে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
বেনজীর আরও বলেন, ‘মুষ্টিমেয় ক’জন জঙ্গিকে ভয় করার কিছু নেই। ১৬ কোটি মানুষের চোখকে র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশের চোখ বানিয়ে তাদের খুঁজে বের করতে হবে।’
র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জের কমান্ডিং অফিসার অতিরিক্ত ডিআইজি শাহাবুদ্দিন খানের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে জামালপুরের জেলা প্রশাসক শাহাবুদ্দিন খান, সারিয়াকান্দির কাজলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মোশররফ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন, জামালপুরের পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দিন, বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পশ্চিম) শায়ফুজ্জামান ফারুকীসহ র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরা।

র‌্যাব ডিজি বলেন, দেশে এখন ক্রান্তিকাল চলছে। কতিপয় বিপথগামী যুবক ইসলামের নামে ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি এবং ঈদের দিন শোলকিয়ায় হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষকে খুন করেছে। তারা অনৈসলামিক হুলি খেলায় মেতে উঠেছে। এ দেশে আসা সুফি-সাধকরা মানুষকে ভালোবাসার মাধ্যমে ইসলাম প্রচার করেছেন। কখনও রক্তপাত, শক্তি প্রদর্শন ও রাজনৈতিক ক্ষমতার দিকে হাত বাড়াননি। কিছু বিপথগামী ধর্মের নামে মানুষ খুন করে মুসলমান ধর্মকে অপমান করছে। তাই এরা কখনও মুসলমান নয়।

তিনি বলেন, ঈদের দিন শোলাকিয়ায় হামলার সঙ্গে জড়িত শফিউলকে বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনা নদীর জামথল ঘাটে আনা হয়েছিল। এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর জামালপুর জেলা হয়ে শোলাকিয়ায় হামলার জন্য পাঠানো হয়েছিল; তাই এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।

র‌্যাব ডিজি জনগণকে এলাকায় জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এদের সংখ্য খুব কম। তাই ভয় পাবার কিছু নেই। নতুন কেউ আসলে সঙ্গে সঙ্গে তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি জঙ্গি ধরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ও জঙ্গির সংবাদদাতাকে পরিবারসহ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এছাড়া জঙ্গিবাদ থেকে ফিরে এসে গ্যাং ধরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা পুরস্কারসহ আইনি সহায়তা প্রদান ও পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন জেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চলে নজরদারি থাকবে। কেউ দুঃসাহস দেখালে নিশ্চিহ্ন করা হবে।

বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, ২০০৪ সালে দেশে জঙ্গির উত্থান হয়েছিল, তাদের ছিন্নভিন্ন ও নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। যারা এখন বোকামি করে জঙ্গি সংগঠনে যোগদান করেছে তাদেরও নির্মূল করা হবে। তিনি জঙ্গিদের ‘অশান্তির শকুন’ আখ্যায়িত করে বলেন, তারা ছোট বাচ্চাদের ব্রেন ওয়াশ করে তাদের বিপথগামী করছে।

অপারেশন পরিচালনার নেতৃত্বদানকারী র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জের কমান্ডিং অফিসার অতিরিক্ত ডিআইজি শাহাবুদ্দিন খান বলেন, দুটি জোনে বিভক্ত হয়ে বগুড়ার সারিয়াকান্দির কাজলা ইউনিয়নের ট্যাংরাকুরা ও ধুনটের নিমগাছী ইউনিয়নের তালপট্টি, নান্দিয়াপাড়া, নিমগাছী, দক্ষিণ বেড়েরবাড়ি, নাংলু ও ফরিদপুর গ্রামে অভিযান চালানো হয়েছে। র‌্যাবের নেতৃত্বে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা অভিযান অংশ নেন।

তিনি আরও বলেন, কোনও জঙ্গিকে গ্রেফতার করা না গেলেও তাদের আস্তানা চিহ্নিত করা গেছে। তাদের গ্রেফতার ও নির্মূলে যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে। পরিত্যক্ত অবস্থায় কিছু দেশীয় অস্ত্র ও জিহাদি বই পাওয়া গেছে। র‌্যাব প্রধান ও তার সঙ্গীরা সড়ক পথে বগুড়া ও জামালপুরের সীমান্ত এ এলাকায় এলেও পরে পুলিশের হেলিকপ্টারে ঢাকা ফিরে যান।

/এইচকে/আপ: এনএস/

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামনৌবন্দরেঅপারেশনআইরিন, সন্দেজনককিছুমেলেনি