সন্ধান পাওয়া ব্যক্তিদের কেউ জঙ্গিবাদে জড়িত নন

নাটোরে ৪৪ নিখোঁজের মধ্যে ৩৪ জনের সন্ধান মিলেছে

নাটোরজঙ্গিবাদের উত্থান ঠেকাতে দেশব্যাপী নিখোঁজদের তালিকা করার অংশ হিসেবে নাটোর পুলিশ মোট ৪৪ জন নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকা করলেও, ইতোমধ্যেই সন্ধান মিলেছে ৩৪ জনের। এদের মধ্যে ১১ জন নারী। সন্ধানপ্রাপ্তরা অনেকেই বাড়িতে ফিরে এসেছেন। আবার অনেকে বসবাস করছেন অন্যত্র। জেলায় এখন পর্যন্ত ২ জনের তথ্য অনুসন্ধান করছে পুলিশ অপরদিকে প্রকৃত নিখোঁজ হিসেবে রয়েছে ৮জন। নিখোঁজদের অনুসন্ধানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করছেন পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা।
নিখোঁজদের তালিকা, সন্ধান ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকার ও জেলা আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর পুলিশের পাশাপাশি মাঠে নেমেছে পৌরকতৃপক্ষ।
নাটোর পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তালিকা মতে, নাটোরের সাতটি থানার মধ্যে বাগাতিপাড়া,বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর থানায় নিখোঁজদের কোনও তথ্য নেই। অপরদিকে নাটোর সদর থানায় নিখোঁজ তালিকায় ছিল ২১ জন, সিংড়া থানায় তিনজন, লালপুর থানায় ১৪ জন এবং নলডাঙ্গা থানায় নিখোঁজ হিসেবে রয়েছে ছয়জন।

সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, নিখোঁজ ২১ জনের মধ্যে ইতোমধ্যেই তারা ১৯ জনের সন্ধান পেয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই বাড়িতে ফিরে এলেও বাকিরা অন্যত্র বসবাস করছেন। বাকি দুইজনের ঠিকানা অনুসন্ধান চলছে। আশা করা যাচ্ছে, শিগগিরই এদের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, সন্ধানপ্রাপ্তদের কারোরই জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

সিংড়া থানার ওসি নাছির উদ্দিন মণ্ডল জানান, নিখোঁজ তিন জনের মধ্যে ইতোমধ্যেই ২ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে আব্দুল মতিন নামে একজন বাড়িতে ফিরে এসেছেন আর মোন্নাফ হোসেন নামে আরেকজন নাটোর শহরের একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করছেন। রাফিউল ইসলাম নামে অপরজন সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।

লালপুর থানার ওসি আবু ওবায়েদ জানান, মোট ১৪ জনকে নিখোঁজ হিসেবে থানায় তথ্য থাকলেও ইতোমধ্যেই তারা ১৩ জনের সন্ধান পেয়েছেন। অপরজন উপজেলার নূরুল্লাপুর এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে আশিকুর রহমান অপুর এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, অপু একজন শিবিরকর্মী। তার সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।

নলডাঙ্গা থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, মোট ৬ জন নিখোঁজ হিসেবে তালিকা পাওয়া গেছে। তাদের সন্ধানে কাজ করছে পুলিশ।

নাটোর শহরের পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ভানু দাস জানান, তার ভাই গণেশ চন্দ্র দাস বেশ কিছুদিন আগে নিখোঁজ হওয়ার পর তারা থানায় জিডি করেছিলেন। জিডি করার কিছুদিন পরই গণেশ বাড়ি ফিরে এসেছে।

নাটোর পৌরমেয়র উমা চৌধুরী জলি জানান, নির্দেশনা পাওয়ার পর তারা প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে দলীয় ব্যানারে, অপরটি কাউন্সিলরের নেতৃত্বে জঙ্গিবিরোধী কমিটি করেছেন। পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের নেতৃত্বে সচেতনামূলক উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রাপ্ত লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক বিলবোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, পৌর এলাকার মধ্যে যেসকল ছাত্রাবাস বা ছাত্রীনিবাস রয়েছে সেখানে বসবাসকারী প্রতিটি শিক্ষার্থীর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পৌরএলাকার মধ্যে বসবাসকারী প্রতি নাগরিকের তথ্য এবং ভাড়াটেদের তথ্য সংগ্রহে প্রতিটি বাড়িতে ফরম পাঠানো হচ্ছে। এর বাইরেও পৌর এলাকার মধ্যে যেসব মসজিদ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ওগুলো পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।

পুলিশ সুপার শ্যামল মুখার্জী জানান, নিখোঁজদের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে পাশাপাশি নিখোঁজদের ব্যাপারে সন্ধান করছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সন্ধানপ্রাপ্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ সবার তথ্য পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে নাটোরের কেউ জঙ্গিসংশ্লিষ্টতায় রয়েছে কি নেই।

/এইচকে/

আরও পড়ুন: দিনাজপুরে নিখোঁজ ১৩, জিডি ১২ জনের নামে