গত ২৩ এপ্রিল রাজশাহী নগরীর শালবাগান এলাকায় খুন হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকী। এর একদিন আগে ২২ এপ্রিল দুপুরে আবাসিক হোটেল ‘নাইস ইন্টারন্যাশনাল’ থেকে জোড়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এদের মধ্যে নিহত সুমাইয়া নাসরিন (২০) পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার সঙ্গী মিজানুর রহমান (২৫) পড়তেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে।
২৪ এপ্রিল নিজের চেম্বারে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির সাবেক প্রশাসক এবং জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক জিয়াউল হক টুকু।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই তিনটির মধ্যে কেবল জিয়াউল হক টুকু হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্ত শেষ হয়েছে। এরপর মামলাটি গোয়েন্দা শাখা তদন্ত করবে। এ ঘটনায় তিনজন গ্রেফতার হয়েছেন। বাকি দুটি মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। নাইস হোটেলে জোড়া খুনের প্রাথমিক তদন্ত শেষের পথে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এখন ডিএনএ ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ ছাড়া রাবি শিক্ষক হত্যা-মামলার তদন্তও শেষের পথে। এ মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীসহ ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
টুকু ও নাইস হোটেলে জোড়া খুনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালিয়া মডেল থানার পরিদর্শক সেলিম বাদশা বলেন, ‘টুকু হত্যা মামলার আসামি রাজধানীর মতিঝিল এলাকার বাসিন্দা ঠিকাদার নয়ন। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন। আর নাইস হোটেলের জোড়া খুনে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ময়নাতদন্তের ভিত্তিতে বলা যায়, মেয়েটিকে ধর্ষণের পর ছেলেটি আত্মহত্যা করেছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে ডিএনএ ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর।’
রাবি শিক্ষক হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক রেজাউস সাদিক বলেন, ‘তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। এ পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।’
/এআরএল/
আরও পড়ুন: