শিক্ষার্থীরা জানায়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করবেন। তবে প্রশাসন এখনও এ ব্যাপারে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হওয়ার পর একটি বিক্ষোভ মিছিল করে। এরপর সিরিঞ্জ ব্যবহার করে নিজেদের শরীর থেকে রক্ত নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের প্রবেশ পথে ঢেলে সেখানে অবস্থান নেয়। পরে দুপুর ২টার দিকে প্রশাসন ভবনের দ্বিতীয় তলার বারন্দায় অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
সরেজমিনে দুপুর ২টার দিকে দেখা যায়, প্রশসান ভবনের প্রবেশ পথে বিভিন্ন জায়গায় রক্ত দিয়ে লিখা রয়েছে, ‘৩৩ ব্যান’। এছাড়া সিরিঞ্জগুলো পাশাপাশি রেখে সাজানো হয়েছে ‘৩৩’। পাশে দিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী মাটিতে বসে আছে। অন্যদিকে, প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী প্রশাসন ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান নিয়ে আছেন। এ সময় তারা ৩৩ ক্রেডিট বাতিল চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
জানা যায়, রুয়েট শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে দুই সেমিস্টারে বাধ্যতামূলক ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। অন্যথায়, তাকে পুনরায় সেই বর্ষেই থাকতে হবে। এর আগে নিয়ম ছিল, কোনও শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা অনুপস্থিতির কারণে ন্যূনতম ক্রেডিট অর্জন না করলেও পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হতে পারত। সে ক্ষেত্রে পরবর্তীতে তাকে পরীক্ষা দিয়ে ওই ক্রেডিট অর্জন করতে হত। তবে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ নিয়ম পরিবর্তন আনা হয়।
এর আগে আন্দোলন দমাতে ৩১ জানুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। ২ জানুয়ারি সকাল ১০টার মধ্যে টিনসেড হলে অবস্থানরত আন্দোলনকারী ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রফিকুল আলম বেগ বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিল ৩৩ ক্রেডিট বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়নি। তাই আমরা ৩৩ ক্রেডিট বাতিল করছি না।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন,‘আমরা তাদের বার বার আলোচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের কোনও কথা না শুনে আমার কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের আন্দোলনে ১১ আগস্ট একই দাবিতে রুয়েটের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে প্রশাসন ভবনের সামনে আন্দোলন করেন রুয়েটের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। টানা দুই দিন আন্দোলনের পর ১২ আগস্ট রাতে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সব ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের অনড় অবস্থানের কারণে তখন শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে আসেন।
/এমডিপি/