বগুড়া পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়,১ মার্চ রাত ৩টার দিকে শেরপুর উপজেলার জামনগর এলাকায় বন্দুকযুদ্ধ হয়। এ সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নব্য জেএমবির সামরিক শাখার উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার আমিজুল ইসলাম ওরফে আল-আমিন ওরফে রনি (২৬) নিহত হয়। তার কাছে তিন রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিন পাওয়া গেছে। তিনি শেরপুরের মহিপুর জুয়ানপুর কুটিরভিটা গ্রামে জঙ্গি ঘাঁটিতে গ্রেনেড বিস্ফোরণ মামলার সন্দেহভাজন আসামি ছিল। রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার বুজরুক রাজারামপুর গ্রামের জনৈক দুরুল হকের ছেলে। তাকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতারের সময় তার ছুরিকাঘাতে ডিবি পুলিশের দুই কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে কাহালুর পাতাঞ্জ গ্রামে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নব্য জেএমবির পাবনা, কুষ্টিয়া, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার প্রধান সমন্বয়ক আবু মুসা ওরফে আবুজার ওরফে আবু তালহা ওরফে রবিন ওরফে সামিউল (৩২) নিহত হয়। এ সময় তার কাছে তিন রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল ও তিনটি ধারালো অস্ত্র পাওয়া গেছে। তিনি রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা মামলায় গ্রেফতার নব্য জেএমবির অন্যতম প্রধান নেতা রাজীব গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সে পাবনার হেমায়েতপুর বেতেপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে। সে কুষ্টিয়ায় হোমিও ডাক্তার ছানাউল্যা, নাটোরে মুদি দোকানি সুনীল গোমেজ হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল।
গত বছরের ২৯ আগস্ট গভীর রাতে শেরপুর উপজেলার নাইলাপাড়া মোড়ে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জেএমবির সামরিক শাখার উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার বদর মামা ওরফে খালেদ এবং সদস্য রিপন নিহত হয়। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল,চার রাউন্ড গুলি ও গ্রেনেড তৈরির কিছু সরঞ্জাম পাওয়া যায়। খালেদ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার হামিদপুর গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে দিনাজপুর সদর ও কাহারোল থানায় হত্যাসহ ৪টি মামলা আছে। রাজশাহীর রিপনের বিরুদ্ধে রাবির শিক্ষক রেজাউল করিমকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
গত ৯ জুন গভীর রাতে শিবগঞ্জ উপজেলার পিরব সড়কের জামতলী লোহার ব্রিজ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জেএমবি সদস্য কাওসার (২৫) নিহত হয়। ঘটনাস্থলে দুই রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি গুলির খোসা, ৫টি হাত বোমা, দুটি ছোরা ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, জঙ্গিদের বোমার আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়।
জয়পুরহাটের কমর গ্রামের আমীর আলীর ছেলে জেএমবির জঙ্গি কাওসার গত ২০১৫ সালে বগুড়ার শিবগঞ্জের চককানু গ্রামে শিয়া মসজিদের হামলা মামলার অন্যতম আসামি। তার গুলিতে মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম হোসেন নিহত এবং ইমাম শাহিনুর রহমান ও মুসুল্লি তাহের মিস্ত্রি এবং আফতাব আলী আহত হয়েছিলেন।
অন্যদিকে গত বছরের ৩ এপ্রিল রাতে শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ জুয়ানপুর কুঠিরভিটা গ্রামে একটি ভাড়া বাড়িতে গ্রেনেড তৈরির সময় বিস্ফোরণে দুই জঙ্গি নিহত হয়। তাদের একজন জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক শাখা প্রধান রাইসুল ইসলাম খান ওরফে ফারদিন এবং সিরাজগঞ্জের তরিকুল ইসলাম জুয়েল। পুলিশ ওই বাড়ি থেকে ২০টি তাজা গ্রেনেড, ৪টি বিদেশি পিস্তল, ৪০ রাউন্ড গুলি এবং ৩ শতাধিক গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম ও কাঁচামাল উদ্ধার করেছে। একটি মোটরসাইকেল ও একটি বাইসাইকেলও পাওয়া গেছে। তারা ১ বৈশাখে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে পুলিশ দাবি করেছে।
এছাড়া রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হত্যাযজ্ঞের পর আইন-শৃংখলা বাহিনীর গুলিতে বগুড়ার শাজাহানপুরের পায়েল ও ধুনটের উজ্জ্বল মারা যান। পরবর্তীতে হাকিম নামে এক জঙ্গি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। ২৬ জুলাই কল্যাণপুরে জঙ্গি ঘাঁটি থেকে বগুড়ার জামিলনগরের রাকিবুল হাসান রিগেন (১৯) গ্রেফতার হয়। এছাড়া সিরাজগঞ্জে জেএমবির দু’জন নারী সদস্য গ্রেফতার হয়েছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ কুমার মণ্ডল জানান,তারা জঙ্গি দমনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ জেলায় কতজন জঙ্গি আছে এবং তাদের মধ্য থেকে কতজন নিহত হয়েছে তার পরিসংখ্যান নেই।
/জেবি/জেএইট/আপ-এআর/