রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগেরসহ সভাপতি আব্দুল মজিদ সরদারের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর উপজেলার কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার দুপুরে স্কুলের অফিস কক্ষে এঘটনা ঘটে। এ সময় অফিস কক্ষও ভাঙচুর করা হয়।
জানা গেছে, আব্দুল মজিদকে না জানিয়ে ম্যানেজিং কমিটির তালিকা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তাদের মারধর করেছেন। বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল মজিদ সরদার লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে ঢুকে এ হামলা চালায়। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন (৫৫), সহকারী শিক্ষক (শরীর চর্চা) সাইফুল ইসলাম (৪০) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির ছেলে রবিউল ইসলাম (৪২)।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল গফুর শাহ জানান, বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন আব্দুল মজিদ লোকজন নিয়ে হামলা চালায় এবং বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ভাঙচুর করে। প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেনকে বাঁচাতে গেলে তার ছেলে রবিউল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় রবিউলের বাম হাতের আঙ্গুল কেটে যায়। এছাড়া সহকারী শিক্ষক সাইফুলকে মাটিতে ফেলে কিলঘুষি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।
প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেন বলেন, কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে তালিকা পাঠানো হয়। আব্দুল মজিদকে না জানিয়ে ওই তালিকা বোর্ডে পাঠানোয় তিনি লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঢুকে আমার শার্টের কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করেন। বাধা দিতে এলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির ছেলে রবিউল ইসলামকে লাঠি ও হাতুড়ি দিয়ে পেটানান। এ সময় আব্দুল মজিদ পিস্তল বের করে আমাদের হুমকি দিয়েছেন।
তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল মজিদ সরদার বলেন, স্কুলের কমিটি নিয়ম মাফিকভাবে করা হয়নি। এ ব্যাপারে অভিভাবকদের কিছু জানানো হয়নি, এমপির কথায় কমিটি হয়েছে। এনিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য হেডমাস্টারকে লাঞ্ছিত করেন।
দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেওয়ান নাজমুল আলম জানান, আহতদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক মকবুল হোসেনের ডান চোখের নিচে ফুলে রক্ত জমাট বেঁধেছে। এছাড়া ডান কানের পর্দা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। আর রবিউল ইসলামের বাম হাতের আঙুলে চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় দুর্গাপুর থানার ওসি রুহুল আলম জানান, খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। এ সময় মজিদ ও তার লোকজন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: ‘জঙ্গি' রতন বহিষ্কৃত হয়েছিল ক্যাডেট কলেজ থেকে