বগুড়ায় ধানে 'নেক ব্লাস্ট', লোকসানের আশঙ্কায় কৃষক

ধানের নেক ব্লাস্ট রোগবগুড়ার জাহানপুর উপজেলায় বোরো ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। ব্রি-২৮ জাতের ধানে নেক ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণে শীষে চিটা দেখা দিয়েছে। সে কারণে উৎপাদন খরচ না পাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াই থেকে বিরত রয়েছেন।  চলতি বোরো মৌসুমে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।   

এদিকে নেক ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ ঠেকাতে কৃষি বিভাগ থেকে ধানে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তাতে কোনও কাজ হয়নি বলে দাবি করেছেন কৃষকরা। তবে কৃষি বিভাগ থেকে বলা হচ্ছে, আগে থেকে সতর্ক না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকমত স্প্রে করলে এমনটি হতো না। 

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলার মধ্যে আমরুল ইউনিয়নের ফুলকোট গ্রামে নেক ব্লাস্ট রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। ফুলকোট দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুল বাছেদ জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ করেন। এর মধ্যে দুই বিঘা জমিতে এই রোগের সংক্রমণ হয়েছে বেশি। কৃষি বিভাগের পরামর্শে চারবার কীটনাশক প্রয়োগ করেছেন। এরপরও রোগ থেকে রেহাই পাননি। গত বছর ওই তিন বিঘা জমি থেকে ১০০ মণ ধান পেয়েছিলেন তিনি। এবার সর্বোচ্চ ২৫ মণ ধান পাওয়া যেতে পারে। কাটা ও মাড়াই খরচের ভয়ে তিনি জমি থেকে ধান কাটছেন না। একই গ্রামের আজিজুল হক, আবদুল জলিল, ছায়েদ আলী, মোস্তাকিম, আবুল হোসেন, আবদুল হাকিমসহ অন্যান্য কৃষকের ধান ক্ষেতও নেক ব্লাস্ট আক্রান্ত হয়েছে। তারাও উৎপাদন খরচ উঠবে না মনে করে ধান কাটতে সাহস করছেন না।

কৃষি কর্মকর্তা সোহেল মো. শামসুদ্দিন ফিরোজ জানান, বৈরি আবহাওয়া, ভ্যাপসা গরম, প্রবল বর্ষণ, দিনে ও রাতে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণেই মূলত নেক ব্লাস্ট রোগ ছড়িয়েছে। এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে কৃষকদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদেরকে ডুপার ও নাতিভো কীটনাশক প্রয়োগ করতে বলা হয়েছে। যারা আগে থেকে সতর্কতা অবলম্বন করেনি তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, নেট ব্লাস্ট আক্রান্ত ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলেই কেটে নিতে বলা হয়েছে কৃষকদের। আগে থেকে স্প্রে করলে নেক ব্লাস্টের আক্রমণে তেমন ক্ষতি হওয়ার কথা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারের মৌসুমে ১৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। প্রতি বিঘাতে ২২ মণ ধান উৎপাদন হওয়ার কথা। সেদিক থেকে নেক ব্লাস্টের আক্রমণে এক থেকে দুই শতাংশ উৎপাদন কম হতে পারে।বড় ধরনের লোকসান নাও হতে পারে। 

/এসএমএ/এফএস/

আরও পড়ুন- 

নদীভিত্তিক পর্যটনে গতি আসবে অর্থনীতিতে