মামলার আসামিরা হলেন একই মিলের শ্রমিক সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিল গজারিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে জাকিরুল ইসলাম (১৮), ধোপাকান্দি গ্রামের আব্দুল আ্ওয়াল (৪০), আব্দুল হামিদ (৫০), মুক্তার হোসেন এবং কামারখন্দ উপজেলার জোয়ালকান্দা গ্রামের ওয়াজেদ আলী (৫৫)।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাসুদেব সিনহা মামলা রজুর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্তরা এখনও ধরা পড়েনি। মামলার বাদীর অভিযোগের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও জানান, গত ১৫ জুলাই সকালে উল্লেখিত আসামিরা কারখানার ভেতরে ভ্যাকুয়ুম মেশিন দিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিল। এ সময় তারা শিশু কাইয়ুমকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নিতে বলে। এতে সে রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক তারা শিশুটির পায়ুপথে ভ্যাকুয়ুম মেশিনের নল ঢুকিয়ে দিয়ে বাতাস দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তার পেট ফুলে গুরতর অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত ১ আগস্ট শজিমেক কর্তৃপক্ষ তাকে রিলিজ দেয়। পরে ২ আগস্ট রাতে ভিকটিমের মা ববিতা খাতুন বাদী হয়ে কামারখন্দ থানায় মামলা দেন।
এদিকে, ভিকটিমের মা ববিতা খাতুন ও বাবা ইলিয়াস আলী বুধবার সকালে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. শেখ মো. মঞ্জুর রহমানের অফিস কক্ষে এসে তার কাছে অভিযোগ করে বলেন, কামারখন্দ থানায় বেশ ক’বার মামলা করার জন্য গেলেও ওসি নানা টাল-বাহানা করে শেষ পর্যন্ত মামলা নেননি। স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি তাৎক্ষনিক পুলিশ সুপারকে অবগত করলে পুলিশ রাতেই বাদীকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে মামলা রেকর্ড করেন বলে জানা যায়। অন্যদিকে, মামলা রেকর্ড করার পর এসিআই-গোদরেজ এগ্রোভেট ফিড মিলের কর্মকর্তাদের বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কামারখন্দ থানায় দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
/বিএল/