মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এ যাবৎ যতগুলো হত্যাকাণ্ড হয়েছে তার একটিরও বিচার হয়নি। খুনিরা বুঝে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদে হত্যা করা যায়। কিন্তু এভাবে আর কত শিক্ষক-শিক্ষার্থী খুন হলে রক্তের এ হলি খেলা বন্ধ হবে? আমরা শিক্ষক, আমাদের থাকার কথা ক্লাসে। কিন্তু কেন বারবার আমাদের রাস্তায় নেমে আসতে হয়?
এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানান বক্তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সরকার সুজিত কুমার, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি জুলফিকার আলী ইসলাম, আইন বিভাগের অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান, সমাজকর্ম বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন মাতিন প্রমুখ।
মামলার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সালাম বলেন, ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার কাজ চলছে। আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর দুপুরে ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় নিজ বাসার সামনে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউল ইসলাম। তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আখতার রেশমা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এক বছর পর ২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বর ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে নাসরিন আখতার রেশমার সঙ্গে শিক্ষক শফিউল ইসলামের দ্বন্দ্বের জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে রাজশাহী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, আব্দুস সামাদ পিন্টু, আরিফুল ইসলাম মানিক, সিরাজুল ইসলাম, সবুজ, আল মামুন, আরিফ, সাগর, জিন্নাত আলী, ইব্রাহিম খলিল ও নাসরিন আখতার রেশমাকে আসামি করা হয়। তারা সবাই গ্রেফতার হলেও বর্তমানে জামিনে আছেন।