জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম আমিরুল ইসলাম ও সদর প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফ আলী জানান, নতুন বছরে শিশুরা নতুন বই হাতে পেলেও গত কয়েক দিনের তীব্র শীতে বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়। তবে তাপমাত্রা বাড়লে উপস্থিতি বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া উত্তরা কেজি একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক মাসৌরা খাতুন কাকলী ও বালিকা শাখার প্রধান শিক্ষক সেলিম ইমতিয়াজ জানান, বছরের প্রথম থেকেই ক্লাস শুরু হলেও তীব্র শীতে সব শিশু বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছে না। শীতে মর্নিং শিফটের শিশুদের স্কুল সকাল সাড়ে ৮টার পরিবর্তে সাড়ে ৯টা করা হয়েছে।
এদিকে, নাটোর সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল ইসলাম জানান, কয়েক দিনের তীব্র শীতে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি আর ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, মূলত শিশু আর বৃদ্ধরাই এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। মঙ্গলবার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ১৭ শিশু শীতজনিত রোগে ভর্তি হয়েছে। আবার আউটডোরেও শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে তীব্র শীতে ভিড় বেড়েছে ফুটপাতের শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে। শহরের কানাইখালী এলাকায় মসজিদ মার্কেট ও পার্শ্ববর্তী রাস্তার পাশের কাপড় বিক্রেতা মোজাব জানান,তীব্র শীতের কারণে তাদের বিক্রি বেড়েছে। ক্রেতারা চড়া দামেই শীতের পোশাক কিনছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মোজাব দাবি করেন, আগে শীতের যে পোশাকের দাম ছিল ১০-২০ টাকা তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা দরে।
অন্যদিকে শীতে এখন পর্যন্ত ফসলের কোনও ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নাটোর কৃষি সম্প্রসারণের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম। তবে এই তীব্র শীত অব্যাহত থাকলে ফলনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে বুধবার সকাল থেকেই জেলায় তাপমাত্রা বিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পাবনার ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন। তিনি জানান, বর্তমানে ঈশ্বরদী ও নাটোরসহ আশপাশের এলাকায় চলছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে শীতের এই তীব্রতা শুরু হলেও সোমবার তাপমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার রেকর্ড করা হয় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।