সরকারি আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ১০ এপ্রিল একই আদালতে সমকাল সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল হত্যা মামলার চার্জশিট গঠনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। এর আগে শিমুল হত্যা মামলাটির মূল বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শাহজাদপুর আমলি আদালত থেকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তরের পর গত বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) মিস কেসের মাধ্যমে মিরুর জামিনের আবেদন করা হয়। একই আদালত সেসময় মিরুর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি রাস্তার সংস্কার কাজ নিয়ে তৎকালীন মেয়র হালিমুল হক মিরুর লোকজনের সঙ্গে শাহজাদপুর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদের তর্ক হয়। এরই জের ধরে ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বিজয়কে তুলে নিতে মেয়র, তার দুই ভাই ও সমর্থকরা মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেয়। এ ঘটনায় বিজয়ে চাচা এরশাদ আলী বাদী হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও শাহজাদপুর পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরু, তার ছোট ভাই হাসিবুল হক পিন্টু ও হাবিবুল হক মিন্টুসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন। এদিকে, শিমুল হত্যা মামলায় মিন্টু ও সাময়িক বহিষ্কৃত উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা এ.কে.এম. নাসির উদ্দিনসহ এ মামলার ২৯ আসামি বিভিন্ন মিস কেসের মাধ্যমে উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন নিলেও মিরু সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন। তবে, এ মামলার আট আসামি এখনও পলাতক।
এদিকে, সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. আব্দুর রহমান সোমবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রবিবার এক সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের জানান- শিমুল হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, এ বিষয়ে বাদী শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন এখনও পিপির মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেননি। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর না হলেও জেলা জজ আদালতে মামলার সাক্ষীরা ঠিকমত সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে পারলে শিমুলের স্ত্রী উপযুক্ত বিচার পাবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে সমকাল পত্রিকার শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল মেয়র মিরুর শটগানের গুলিতে আহত হন। পরদিন বগুড়া থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিমুলের স্ত্রী নুরুন্নাহার খাতুন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করলে পুলিশ মিরু ও তার ভাই মিন্টুসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়।