ছোট ভাইকে হত্যায় বড় ভাইসহ দুই জনের যাবজ্জীবন

কারাদণ্ড

বগুড়ায় ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে বড় ভাইসহ দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও  ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহা. ইমদাদুল হক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় দেন।

নিহত কলেজ ছাত্রের নাম জাহিদ হাসান জয় (২০)। সাজাপ্রাপ্তরা হলো,জয়ের বড় ভাই নওগাঁর রানীনগর উপজেলার দুধিয়া গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে আল ফারুক জেমস (৩০) ও তার বন্ধু বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ফুলদীঘি মধ্যপাড়ার মোহাম্মদ আলীর ছেলে সুজন মাহমুদ সৌরভ (২৮)।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নওগাঁর রানীনগর উপজেলার দুধিয়া গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে জাহিদ হাসান জয় বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে এইচএসসি মানবিক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। সে কলেজের কাছে ফুলবাড়ি এলাকায় একটি মেসে থাকতো। বড় ভাই রেন্ট-এ-কার চালক জেসম পৈতৃক সম্পত্তি একা ভোগ করার জন্য ছোট ভাই জয়কে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। ২০১৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে সে (জেমস) পকেট খরচ দেওয়ার নামে জয়কে শহরের লতিফপুর কলোনি থেকে মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রো-চ-১৩-৪৯৭৫) তুলে নেয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিল তার বন্ধু সৌরভ। মাইক্রোবাসে তোলার পর পরিকল্পনা অনুসারে তারা জয়কে জুসের মধ্যে ঘুমের ওষুধ দিয়ে খাওয়ায়। জয় ঘুমিয়ে পড়লে জেমস ও সৌরভ গলায় গামছা পেচিয়ে তাকে হত্যা করে। এ হত্যার দায় দুর্বৃত্তদের ওপর চাপাতে রাত ৯টার পর লাশটি বেজোড়া জামতলা এলাকায় পাকা সড়কের ফেলে দেয়। এরপর লাশের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হয়। রাত ১০টার দিকে পুলিশ জয়ের লাশ উদ্ধার করে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শজিমেক) মর্গে পাঠায়। ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে পুলিশ শহরের কলোনি এলাকার মেস থেকে জেমসকে এবং নিজ বাড়ি থেকে সৌরভকে গ্রেফতার করে। হত্যার কাজে ব্যবহৃত সেকেন্দারের মাইক্রোবাসটিও উদ্ধার করে।পরে ডিবি অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা হত্যার কথা স্বীকার করে। জয়ের চাচা নুর ইসলাম শাজাহানপুর থানায় জেমস ও সৌরভের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তারা দুই জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার এসআই নুরুজ্জামান ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর আদালতে ওই দুই জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।

দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মঙ্গলবার দুপুরে এ রায় দেন। এ সময় সাজাপ্রাপ্তরা আদালতে হাজির ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এপিপি নাসিমুল করিম হলি। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন, আবদুল হামিদ, রেজাউল করিম ও সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ ।

আরও পড়ুন: আ. লীগ সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত: নাসিম