চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন, শহর শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক তুফান সরকার, তার স্ত্রী তাসমিন রহমান আশা, শ্যালিকা পৌর কাউন্সিলর মারজিয়া হাসান রুমকি, শাশুড়ি লাভলী রহমান রুমি, সহযোগী মেহেদী হাসান রূপম, আতিকুর রহমান আতিক, মো. মুন্না, আলী আজাদ দিপু, এমারত আলম খান জিতু এবং সামিউল হক শিমুল (পলাতক)। তুফানের শ্বশুর জামিলুর রহমান রুনু ও নাপিত জীবন রবিদাসের বিরুদ্ধে প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
সম্পূরক চার্জশিটে চিকিৎসক, আসামি এবং ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেটদের নাম যোগ করা হয়েছে।
গত বছর ১০ অক্টোবর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রথম চার্জশিট দাখিল করা হয়েছিল। এতে সাক্ষী হিসেবে ম্যাজিস্ট্রেটদের নাম বাদ পড়েছিল।
সোমবার বগুড়ার শিশু আদালতে তুফান সরকার, আশা, মেহেদী হাসান রূপম, মার্জিয়া হাসান রুমকি, আতিক, মুন্না, দিপু ও জিতুকে হাজির করা হয়। এছাড়া জামিনে থাকা লাভলী রহমান রুমি, জীবন রবিদাস ও জামিলুর রহমান রুনু আদালতে হাজিরা দেন।
নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরীর মা গত বছরের ২৯ জুলাই সদর থানায় মামলা করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, তুফান তার মেয়েকে কলেজে ভর্তি করে দেওয়ার নামে গত বছরের ১৭ জুলাই সকাল ৮টার দিকে তার চকসুত্রাপুরের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তুফান তাকে ধর্ষণ করে। মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় এবং পরিবার নিয়ে দ্রুত অন্যত্র চলে যেতে বলে। বিষয়টি তুফানের সহযোগী আতিকের মাধ্যমে জানতে পেরে তার স্ত্রী আশা ক্ষুব্ধ হয়। সে স্বামীর অপরাধ ঢাকতে তার বোন বগুড়া পৌরসভার ২ নম্বর সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর রুমকি ও মা রুমির সঙ্গে পরামর্শ করে। এরপর দুই বোন ও মা গত ২৮ জুলাই দুপুরে তুফান বাহিনীর সদস্য মুন্না, আতিক, দিপু, রুপম, শিমুল ও অন্যদের মাধ্যমে নামাজগড় বেগম বাজার লেনের ভাড়া বাড়ি থেকে মাসহ ওই কিশোরীকে রুমকির বাদুড়তলার বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে মা ও মেয়েকে নির্যাতন এবং মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। এসময় আশা ও রুমকির নির্দেশে তুফান বাহিনীর সদস্যরা তরুণীর শ্লীলতাহানি করে। শেষে নাপিত জীবন রবিদাসকে ডেকে এনে মা ও মেয়ের মাথা ন্যাড়া করে দেয়। নির্যাতনের পুরো দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করে। এরপর দ্রুত এলাকা ছাড়তে নির্দেশ দেয়। পরে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়।
২৯ জুলাই মামলা দায়েরের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ বেশিরভাগ আসামিকে গ্রেফতার করে। এরপর তুফানকে শ্রমিক লীগ এবং তার বড় ভাই মতিন সরকারকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।