রবিবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অপহৃত শিক্ষকের শ্বশুর নজরুল ইসলাম শনিবার রাত ১১টায় এই জিডি করেন। তিনি জিডিতে উল্লেখ করেছেন, তার মেয়ে জামাই প্রত্যেকদিনের মতো শনিবার কলেজে যাওয়ার পথে অপহৃত হয়েছে। কে বা কারা তাকে অপহরণ করেছে। তার অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে কলেজ শিক্ষকের চেহারা ও পোশাকের বর্ণনাও দেওয়া হয়েছে।’
অপহরণের কারণ জানতে চাইলে ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তাকে তো আর এমনি এমনি তুলে নিয়ে যায়নি। তার তো একটি কারণ আছে। তবে আমরা তার পরিবার ও প্রতিবেশীসহ যেসব জায়গায় সন্দেহ হচ্ছে— সেসব জায়গায় ও ব্যক্তিদের কাছে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। এমনকি তার পূর্বের কোনও রেকর্ড আছে কিনা, সে বিষয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারও সঙ্গে শত্রুতা আছে কিনা। সে কোনও মতাদর্শে বিশ্বাসী কিনা। স্থানীয় লোকজন পুলিশকে জানিয়েছে শফিকুর রহমান একজন কট্টরপন্থী আহলে হাদীস সমর্থক। সব কিছুই মাথায় রেখে আমরা তার অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি।’
ওসি নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনও সদস্য তাকে তুলে নিয়ে যায়নি। তাকে তুলে নিয়ে গেলে আমাদের কাছে খবর আসতো। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা আসেনি।’
এদিকে শনিবার (২৪ মার্চ) সকাল পৌনে ১১টার দিকে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার অনুপমপুর এলাকা থেকে একটি কালো মাইক্রোবাস এসে দুই কলেজ শিক্ষককে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর পাবনার দাশুড়িয়া এলাকায় গিয়ে তারা ডাকরা ডিগ্রি কলেজের রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক বজরুল ইসলামকে ছেড়ে দিয়েছে। তবে চারঘাট উপজেলার আস্করপুর গ্রামের অপহৃত শিক্ষক শফিকুর রহমান ওরফে উজ্জ্বলের খোঁজ পাওয়া যায়নি। বেশিরভাগ দিনই শিক্ষক শফিকুর রহমান উজ্জ্বলের মোটরসাইকেলের পেছনে চেপে বজরুল ইসলাম বাসায় ফেরেন। গাড়ির একজন লোক শফিকুর রহমানের মোটরসাইকেলটি চালিয়ে গাড়ির সঙ্গে সঙ্গে চারঘাট উপজেলা সদরের দিকে চলে যায়।’
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে দুই কলেজ শিক্ষককে তুলে নেওয়ার পর একজন ফিরেছেন