পাবনায় এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১৬ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি

30226661_1511157815660239_4707276970935713792_n

পাবনার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এবছর ১৬ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তারা পাবনা শহীদ বুলবুল কলেজ, শহীদ এম মনসুর আলী কলেজ ও জাগির হোসেন একাডেমি কেন্দ্র থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।

এই ১৬ পরীক্ষার্থী হলেন নরসিংদী জেলার শিহাবুদ্দিন ভুঁইয়া, টাঙ্গাইল জেলার আবদুল্লাহ আল আমিন, গোপালগঞ্জের ইখতেয়ার মৃধা, জামালপুরের গোলাপ মল্লিক, ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার শাহাদত হোসেন, পঞ্চগড় জেলার রোকনুজ্জামান, দিনাজপুরের আব্দুল আজিজ, কুড়িগ্রামের ইমরান হোসেন, টাঙ্গাইল জেলার আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহীর মনিরুজ্জামান, ময়মনসিংহ জেলার মোজাম্মেল হোসেন, নরসিন্দীর মো. আব্দুল্লাহ, জয়পুরহাটের মোহাম্মদ আলী, বরিশালের হুমায়ুন কবির এবং পাবনার মনিরুল ইসলাম। তারা পাবনার মানব কল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে এইচএসসি পরীক্ষা অংশ নিচ্ছেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের উত্তর মুখে বলেন এবং শ্রুতি লেখকরা সেটি লিখে আবার তাদের পড়ে শোনান। এ কারণে তাদের জন্য অতিরিক্ত ২৫ মিনিট বেশি সময় দেওয়া হয়।

তবে এসময় যথেষ্ট নয় বলে তারা দাবি করেন। শিক্ষা বোর্ড থেকে শ্রুতি লেখকদের অনুমোদন, রেজিস্ট্রেশন জটিলতা এবং বিভিন্ন বোর্ডের ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালার কারণে তাদের পদে পদে হয়রানির শিকার হতে হয়।

তারা জানান, এবার সাত জনের এইচএসসি পরিক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পরেছে। পরীক্ষার তিন দিন আগে তারা জানতে পারেন বোর্ড থেকে শ্রুতি লেখকের অনুমোদন দিচ্ছে না। নির্ধারিত এক জনের জন্য ৫ হাজার টাকা করে ১৬ জনের জন্য মোট ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও বোর্ডে এ নিয়ে নানা রকম তালবাহানা শুরু করে। অবশেষে পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন এবং সদর উপজেলা নির্ববাহী অফিসার কায়সারুল ইসলাম বিষয়টা জানার পরে এ ব্যাপারে বিশেষ সহযোগিতা দেন। এরপর এ সাত জন পরীক্ষার আগেরদিন রাজশাহীতে গিয়ে বিষয়টা সমাধান করতে পারেন। তারা সব বাধা ও প্রতিকূলতাকে জয় করে সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধিদের লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজন ব্রেইল পদ্ধতি। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ সুযোগ নেই। পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন শ্রুতি লেখকের। অন্যদিকে আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি এসব পরীক্ষার্থীর পক্ষে শ্রুতি লেখকের  সম্মানি দেওয়া তো দূরের কথা লেখাপড়ার করার জন্য নুন্যতম আর্থিক ব্যয় নির্বাহ করার সক্ষমতাই তাদের নেই। তারপরও থেমে থাকেনি এসব সংগ্রামী দৃষ্টি প্রতিবন্ধিদের শিক্ষাজীবন।

মানব কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হোসেন জানান, এই ১৬ জন পরীক্ষার্থীর মত আরও ৭২ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি পাবনার মানব কল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করছেন। এছাড়া এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১২ জন পথশিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা, ৮ জন  ৯ম শ্রেণী ও দশম শ্রেণীতে ৭ জন, একাদশ শ্রেণীতে ৯ জনসহ এমএতে ২ জন রয়েছেন।  বিভিন্ন শ্রেণিতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ প্রতিষ্ঠানকে সরকারি পৃষ্টপোষকতা দেওয়া হলে সারাদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষালয় হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে বলে তনি মনে করেন।

আরও পড়ুন: মুকসুদপুরে দুবাই প্রবাসীর স্ত্রী ও শিশু নিখোঁজের ৪ মাস ঢাকা থেকে পর উদ্ধার