নকলে বাধা দেওয়ায় শিক্ষকের ওপর ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ

বগুড়ানকল করতে না দেওয়ায় বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে এক কলেজশিক্ষকের ওপর হামলা করেছে উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মীরা। আহত কলেজশিক্ষক নুরে আলম সিদ্দিকীর সন্ধানও পাওয়া যাচ্ছে না। শনিবার (৭ এপ্রিল) আবদুল মান্নান মহিলা কলেজকেন্দ্রে এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা শেষে তার ওপর হামলা করা হয়।

সারিয়াকান্দি আবদুল মান্নান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শাহ্ আলম লতার অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর পর থেকে ছাত্রলীগ নেতা ধাপগ্রামের বনিজ মোল্লার ছেলে দুলাল, একই গ্রামের তাহেরুল ইসলামের ছেলে ওমর এবং ফকিরপাড়ার মন্তেজার রহমানের ছেলে স্বপনের নেতৃত্বে ৬-৭ জন নকলের সুবিধা দিতে দায়িত্বরত শিক্ষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ৪১৬ নম্বর কক্ষে দায়িত্বে ছিলেন নারচি মাজেদা রহমান স্কুল ও কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নুরে আলম সিদ্দিকী। তিনি কঠোর ভূমিকা রাখায় ছাত্রলীগকর্মীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। পরীক্ষা শেষে দুপুর সোয়া ১টার দিকে শিক্ষক নুরে আলম সিদ্দিকীকে কাঠের বাটাম দিয়ে তারা মারধর করে। তখন তিনি প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পালিয়ে যান।

অধ্যক্ষ আরও জানান, ওই শিক্ষকের ফোন বন্ধ থাকায় তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। অধ্যক্ষের ধারণা, তিনি  গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অধ্যক্ষের ভাষ্য, সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রেখে কলেজ পরিচালনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান। তাই এ কেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশে নকলমুক্ত পরীক্ষা গ্রহণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিষয়টি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সারিয়াকান্দি থানার ওসিকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ।

ওসি সিরাজুল ইসলাম ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিদর্শক (তদন্ত) এনায়েত জানান, তিনি এমন খবর জানেন না। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন।

অভিযুক্তরা সারিয়াকান্দি উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মী বলে নিশ্চিত করেছেন  উপজেলা সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দুলাল। তবে, তিনি দাবি করেন— তার সংগঠনের কেউ এমন কাজে জড়িত থাকতে পারেনা। এরপরও কেউ শিক্ষকের ওপর হামলা করার প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।