বগুড়ার শেরপুর সড়কে ডলফিন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ১৮ জুলাই দালালের মাধ্যমে সাকিব হাসান (১৫) নামে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্র ভর্তি হয়। রাতে তার অ্যাপেনডিসাইটিস অপারেশন হয়। ভুল অপারেশনের কারণে ছেলেটি মারা যায়। এ ঘটনার পর চিকিৎসক, নার্স ও ক্লিনিক মালিক পালিয়ে যান। এ ঘটনায় সিভিল সার্জন, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আবদুল ওয়াদুদের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই প্রভাবশালীরা যত্রতত্র ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তুলছেন। কিছু অর্থলোভী চিকিৎসক এসব ক্লিনিকে অপচিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এসব ক্লিনিকে স্থায়ী চিকিৎসক ও নার্স নেই। নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন এসব ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশন থিয়েটার নেই। থাকলেও সেটা মানসম্মত নয়। রোগীর বাঁচার সম্ভবনা নেই জানার পরও শুধু টাকার লোভে ভর্তি করানো হয়। মাঝে মধ্যেই জনগণ অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছেন।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. শামসুল হক জানান, এ জেলায় ২০৮টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। অধিক লাভের আশায় গড়ে এসব চিকিৎসা কেন্দ্রের মধ্যে ১১১টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এরা স্বাস্থ্য বিভাগে রুলস্ অ্যান্ড রেগুলেশন অনুসরণ করেনা।
তিনি আরও জানান, নিয়মানুসারে একটি প্রাইভেট ১০ শয্যার হাসপাতালে তিনজন এমবিবিএস চিকিৎসক, ছয়জন নার্স, একজন সার্জন, একজন গাইনোকোলজিস্ট, একজন মেডিসিন চিকিৎসক এবং একজন অ্যানেসথিয়েটিস থাকার কথা। কিন্তু ৬০ শতাংশই এসব মেনে চলে না। উপরন্তু অধিকাংশরই পরিবেশ অধিদফতরের লাইসেন্স নেই।
এদিকে ভুল অপারেশনে স্কুল ছাত্র সাকিব হাসানের মৃত্যুর পর পত্রিকায় লেখালেখি ও জনগণের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠে নামে। শহরে ২০টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা করেছে। যেগুলোর লাইসেন্স নেই। এর বাইরে কোনও ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলে তার তথ্য সিভিল সার্জন অফিসকে অবহিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তালিকা তৈরির পর থেকে স্বাস্থ্য বিভাগ, আর্মড ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা হচ্ছে।