চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশু মালিহা ও সুমাইয়া হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও একজনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রবিবার দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা ও জেলা জজ আদালতের বিচারক মো. শওকাত আলী আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকর বাটি ফতেপুর মহল্লার ইব্রাহিম আলীর স্ত্রী লাকী খাতুন এবং আঙ্গারিয়া পাড়া মহল্লার রফিকুল ইসলামের ছেলে মিজানুর রহমান।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, চাপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকর বাটি ফতেপুর মহল্লার আব্দুল মালেকের স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মেহ্জাবিন আকতার মালিহা ও তার বান্ধবী সুমাইয়া আক্তার মেঘলা ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে স্কুল শেষে বাড়ির সামনে খেলাধূলা করার সময় নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের সময় তাদের দু’জনের গলায় স্বর্ণের চেন ও কানে বালি ছিল।পরে তাদের খোঁজাখুজির পর না পেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় জিডি করেন তাদের পরিবার। খোঁজাখুজির দুইদিন পর স্থানীয়রা একই এলাকার লাকী খাতুনের শোয়ার ঘরের খাটের নীচে দুটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে বন্দী অবস্থায় মালিহা ও সুমাইয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় স্বর্ণালঙ্কারের লোভেই ওই দুই শিশুকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন আসামি লাকি বেগম। আর ছিনিয়ে নেওয়া স্বর্ণ পাশের জুয়েলার্স মিজানুর রহমান পলাশের কাছে বিক্রি করেন।
পরে গত ৩০ এপ্রিল ২০১৭ সালে আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) চৌধুরী জোবায়ের আহম্মেদ।
সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ দণ্ডাদেশ দেন। সরকারি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকট আঞ্জুমান আরা এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাদরুল আমীন।