কলেজছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকার করেছে অভি

বখাটে কাওসার আলম অভি পুলিশ রিমান্ডে বগুড়া শহর যুবলীগ সভাপতির ছেলে কাওসার আলম অভি (২২) ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকার করেছে। সে দাবি করেছে ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক আছে। অন্য ছেলের সঙ্গে প্রেম করায় সে (অভি) রাগের মাথায় তাকে (ছাত্রী) তুলে এনে ছুরিকাঘাত করেছে। বুধবার অভিকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তি রেকর্ড করা হবে।

মামলা হওয়ার পর গত রবিবার রাতে অভির মা নাসরিন আলম কাকলী ছেলেকে সদর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন। এর আগে অভি তার ফেসবুক আইডিতে (কাওসার অভি অ্যাসিড) ওই ছাত্রীর সঙ্গে তোলা একান্ত ছবি আপ করে। সোমবার সন্ধ্যায় ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম তার দুদিনের (সোমবার ও মঙ্গলবার) রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বগুড়া পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভি ওই কলেজছাত্রীকে তুলে নিয়ে মারপিট ও ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকার করেছে। সে দাবি করেছে, ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সে তাকে অবজ্ঞা করে অন্য ছেলের সঙ্গে প্রেম করছে। এতে অভি ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে তুলে নিয়ে মারপিট ও ছুরিকাঘাত করেছে। মঙ্গলবার তার রিমান্ড শেষ হবে এবং বুধবার আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার চেষ্টা করা হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর শেখ ফরিদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে অভি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তবে মামলার স্বার্থে এ মুহূর্তে তা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে কিনা সে সম্পর্কে ওই কর্মকর্তা কিছু বলতে রাজি হননি।

গত ৩০ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে ছুরিকাঘাত করা হলে ছাত্রীর বাবা শনিবার বিকালে সদর থানায় অভি ও তার তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। রবিবার রাতে অভির মা থানায় এসে ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসী তিনমাথা রেলগেট এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

এদিকে স্থানীয় লোকজন ও স্নিগ্ধা অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা জানান, অভি এসএসসি পাস করার পর শহরে ‘বিট’ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়। সেখান থেকে গত বছর পাস করেছে। সে তার মায়ের সঙ্গে নিশিন্দারা উপ-শহর এলাকায় স্নিগ্ধা আবাসিক প্রকল্পের মোহনা অ্যাপার্টমেন্টে থাকে। বাবা ও তার পরিবার রাজনৈতিক, আর্থিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী। তাই অর্থকষ্ট না থাকায় অভি বখাটে বনে যায়। দামি মোটরবাইকে বন্ধুদের সঙ্গে চলাফেরা করে। সবার সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে। এ কারণে সবাই তাকে এড়িয়ে চলে।

বিসিক ফুলবাড়ি এলাকার জুলফিকার আলী নামে এক ব্যবসায়ী সাংবাদিকদের জানান, তার বিসিকে ‘উত্তরা মোটর্স’ নামে একটি কাঠের কাক্স ও স্ক্রাব কেনার ঠিকাদারি ব্যবসা ছিল। ২০১০ সালে অভির বাবা শহর যুবলীগ সভাপতি মাহফুজুল আলম জয় তাকে মারধর করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি হাতিয়ে নেয়। এরপর তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজের নামে নিয়ে ব্যবসা শুরু করে জয়। পরবর্তীতে এ ব্যবসার দায়িত্ব তার ছেলে অভিকে দেন। এ ব্যবসা করেই অভি অনেক বিত্তশালী হয়ে ওঠে।