পৌর এলাকার সয়াধানগড়া উত্তরপাড়ার নেসকোর গ্রাহক হুমায়ুন কবির সুমান বলেন, ‘জুন,জুলাই ও আগস্ট এই ৩ মাসের ১ হাজার ইউনিটের বিল হিসেবে আমাকে একসঙ্গে ৫ হাজার ৭৪১ টাকার বিল দেওয়া হয়েছে। ওই বিলের সঙ্গে জরিমানা ধরা হয়েছে ২১২টাকা।’ একই এলাকার আনোয়ারা খাতুন জানান, নেসকোর লোকজন জুলাই ও আগস্টের বিল দিয়েছেন ৫ হাজার ৩৭৯ টাকা। আর জরিমানা ধরেছে ১৫৮ টাকা।
আব্দুল খালেক নামে আরেক গ্রাহক জানান, ২ মাসের বিল ১ হাজার ৪৮৮ টাকা এবং জরিমানা ৩৭ টাকাসহ বিল দেওয়া হয়েছে তাকে। মির্জা গাজিউর রহমান বলেন, ‘আমাকে গত ২ মাসের বিল ২৩০৫ টাকা এবং জরিমানা ৬৫ টাকা করা হয়েছে।’
গ্রাহকরা জানান, নেসকোর মিটাররিডাররা প্রতি মাসেই মিটার রিডিং করে যান। কিন্তু কয়েক মাসের বিল একসঙ্গে দেন। বিল দিতে গাফলাতির জন্য তারা জরিমানা দিচ্ছেন।
সয়াধানগড়া উত্তর পাড়া ৪নং ওয়ার্ডের নেসকোর মিটাররিডার খোকন সাহার দাবি, প্রতি মাসের রিডিং লিখে সময়মতো অফিসে জমা দেন। গ্রাহক কেন বিল দেরিতে পান তা তার জানা নেই।
বিল প্রদানকারী ফিরোজ আহম্মেদের দাবি, অফিস থেকে বিল যখন হাতে পাই তখনই গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেই।
সিরাজগঞ্জ নেসকোর ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী আসিফ হোসেন শনিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এ ধরনের সমস্যা প্রায় প্রতি মাসেই হচ্ছে। অফিসের যেমন গাফলাতি আছে, আবার অনেক সময় গ্রাহককেও ঠিকমতো বাড়িতে পাওয়া যায় না। ফিরোজ নামে পৌর এলাকায় নিয়োজিত এক বিল প্রদানকারীর গাফলাতির বিষয়ে গ্রাহকের অভিযোগ পেয়ে তাকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিল হাতে পেলে বা তাতে জরিমানা লেখা থাকলে গ্রাহককে তা পরিশোধ করতে হবে। এ বিষয়ে আমাদেরও কিছুই করার নেই।’
এদিকে, দায়িত্ব অবহেলা ও কাজে ফাঁকিসহ নানাবিধ অপরাধে সম্প্রতি নেসকোর দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত ও ১৪ জনকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। একেএম মহিউদ্দিন নামে একজন নির্বাহী ও আবাসিক প্রকৌশলীকে গত ৩ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা হয়।