বগুড়ায় হতদরিদ্ররা পেল আশ্রায়ন প্রকল্পের ৩২২টি ঘর

Bogra-19-10-18-Picture-03 (1)বগুড়ার সোনাতলায় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত ৩২২টি ঘর বরাদ্দ প্রাপ্ত দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্তরা ঘরগুলোতে বসবাস শুরু করেছেন। প্রতি পরিবারের জন্য বরাদ্দ একটি করে ঘর, বারান্দা ও ল্যাট্রিন। কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি ঘরগুলোর প্রতিটিতে মোট ৫৪ পিস টিন ব্যবহার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে জানা গেছে, সোনাতলায় একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীনে ২-৫ শতক জমি আছে এমন ৩২২টি পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছিল এক লাখ টাকা।

ঘর পেয়ে খুব খুশি ওই উপজেলার ৩২২ পরিবারের প্রায় ১ হাজার নারী পুরুষ। এবার একটি পৌরসভায় ২০টি ও সাতটি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ২০টি পরিবার ওই প্রকল্পের আওতায় এসেছে। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬২টি ঘর এবং ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সোনাতলা পৌর এলাকার গোপাই শাহবাজপুর এলাকার বাবু মিয়া, হাসু মিয়া, জহুরুল ইসলাম, আগুনিয়াতাইড় গ্রামের নান্নু মিয়া, শ্যামপুরের জহুরা বেগম, পোড়াপাইকরের জরিনা বেওয়া প্রমুখ জানিয়েছেন, সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম ও ভিক্ষাবৃত্তি করে পরিবারের সদস্যদের মুখে দুই বেলা দুই মুঠো অন্ন তুলে দিতে পারলেও তাদের কোন নির্দিষ্ট আশ্রয়স্থল ছিল না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বারান্দার মতো স্থানে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তারা। এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেছেন, ‘গোটা উপজেলায় যে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলোর কাজের মান অত্যন্ত ভালো। সরাসরি কোম্পানি থেকে টিন কেনা হয়েছে।’

পাকুল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান শান্তর ভাষ্য, ‘ইতোমধ্যেই যাদের নামে ঘর বরাদ্দ হয়েছে তারা বসবাস শুরু করে দিয়েছে। আর ঘর বরাদ্দে কোন অনিয়ম হয়নি।’

সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর আলমের মূল্যায়ন, ‘আশ্রয়ন-২ প্রকল্প সরকারের মহান উদ্যোগ। এতে দরিদ্র মানুষরা আশ্রয় পেয়েছেন।’