সমাবেশ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর মালোপাড়ায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘অতীতে বড় বড় নেতাদের বক্তব্য শুনতে মানুষের ঢল নামতো। ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশেও তাই হবে। লাখো মানুষের ঢল নামবে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে। তবে পুলিশের কিছু অতি উৎসাহী এবং উচ্চভিলাষী কর্মকর্তা সমাবেশে নানাভাবে বাধা দিচ্ছেন।’
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘সমাবেশের মাত্র ১৪ ঘণ্টা আগে ১২টি শর্তে আমরা সমাবেশ করার লিখিত অনুমতি পেলাম। এখন জনসমাগম যেন কম হয়, সেজন্য বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকাতেও ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে এমনটি করা হয়েছিল। তারপরও এই সমাবেশ সফল হবে এবং এখান থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের গণআন্দোলন শুরু হবে।’
মিনু বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আবদুর রব, কর্নেল অলি আহমেদ, আন্দালিব রহমান পার্থের মতো নেতারা রাজশাহীর সমাবেশে যোগ দেবেন। এই সমাবেশ থেকে এমন কর্মসূচি আসবে, যা দেশের রাজনীতির দৃশ্যপট পাল্টে দেবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগার থেকে মুক্ত হবেন।’
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন ঠিক করার ব্যাপারে মিনু বলেন, ‘সরকারের আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন দেশের জনগণ মানে না। অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে এই কমিশন করা হয়েছিল। জনগণকে নিয়ে প্রয়োজনে আবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। জণগণের ভোটের অধিকার রক্ষা করা হবে।’
ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশ গ্রেফতার করতে শুরু করেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, ‘অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। শতাধিক নেতাকর্মীর বাড়িতে পুলিশ গেছে। তবে, ঠিক কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানাননি মিনু।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, মহানগরের সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, জেএসডির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি এমএ গোফরান, মহানগর সম্পাদক মারুফ আহমেদ পিকু, জাসদ নেতা মনির আহমেদ বাবর, শফিকুল আলম বাবর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার পর রাজশাহী থেকে কোনও বাস ছেড়ে যায়নি। আকস্মিক এই ধর্মঘটের কারণে সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। পরিবহন নেতারা বলছেন, নাটোরে বাস শ্রমিকের ওপর হামলার ঘটনায় এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্য রুটে চলছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য চেষ্টা চলছে। সমাধান হলে আবারও এই রুটে বাস চলাচল শুরু করবে।
বিষয়টি জানতে চাইলে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মনজুর রহমান পিটার বলেন, ‘নাটোরে শ্রমিকদের সঙ্গে ঝামেলার কারণে এই রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে রাজশাহী থেকে নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জয়পুরহাটসহ অন্য আন্তঃজেলা রুটের বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নাটোরের পরিবহন নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। সমস্যার সমাধান হলে আবারও বাস চলাচল করবে।’ তবে, আকস্মিকভাবে এ রুটের বাস চলাচল বন্ধের বিষয়টি জানতে চাইলে রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক কামাল হোসেন রবি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চার জন গ্রেফতার
রাজশাহীর বাঘায় বিএনপির চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতার চার জন হলো- উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি জুয়েল রানা, বাঘা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান, বাঘা পৌরসভা বিএনপির সদস্য মকুল ও আব্দুস সালাম।
বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসীন আলী জানান, বিএনপির চার জনকে নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়াও রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভায় ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামনুর রশিদ মামুনকে গ্রেফতার করেছে গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে পৌর এলাকার লালবাগ হেলিপ্যাড গ্রামে তার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে লালবাগ হেলিপ্যাড গ্রামের সায়েদ মোল্লার ছেলে ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানের আপন চাচাতো ভাই।
গোদাগাড়ী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাশমত আলী বলেন, ‘মামুন অর রশিদ মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের করা নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।’