তথ্যমত, মুক্তিযুদ্ধের সময় নাটোর ছিল পাকিস্তানি হানাদারদের ২ নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার। এখান থেকেই দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যুদ্ধ পরিচালনা করতো পাক বাহিনী। নাটোরের উত্তরা গণভবন ছাড়াও আনছার কোয়ার্টার, নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলেজ, নাটোর রাজবাড়ী, পিটিআই ও বর্তমান উপজলা পরিষদ কার্যালয়ে ছিল পাক সেনাদের ঘাঁটি। এসময় পাক হানাদার বাহিনী নাটোর সদর উপজলার ফুলবাগান, ছাতনী, দত্তপাড়া, মোহনপুর, লালবাজার,কাপুড়িয়াপট্টি, শুকলপট্টি, বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া ক্যাথলিক মিশন, গুরুদাসপুর উপজেলার নাড়িবাড়ি, সিংড়া উপজেলার হাতিয়ানদহ, কলম এবং লালপুর উপজেলার গোপালপুরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল চত্বরসহ ২০টি স্থানে গণহত্যা চালায়। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় পাক বাহিনীর আত্মসর্মপণের পর বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী, নবাবগঞ্জ প্রভৃতি স্থান থেকে পাক সেনারা নাটোরের পিটিআই স্কুল, আনসার হল, রিক্রিয়েশন ক্লাব, এনএস সরকারি কলেজ, নাটোর রাজবাড়ী ও দিঘাপতিয়া উত্তরা গণভবনে (তৎকালীন গভর্নর হাউস) আশ্রয় নেয়। এরপর ২১ ডিসেম্বর উত্তরা গণভবন চত্বরে পাকিস্তানি বাহিনীর নাটোর ব্যারাক কমান্ডার পিএ-১৭০২ ব্রিগেডিয়ার, নওয়াব আহমেদ আশরাফ ভারতীয় বাহিনীর আইসি-৪৫৫১ ব্রিগেডিয়ার রঘুবীর সিং পান্নুর কাছে আত্মসর্মপণ করনে। এসময় পাকিস্তানি বাহিনীর ১৫১ জন অফিসার, ১৯৮ জন জেসিও, ৫৫০০ সামরিক বাহিনীর সদস্য, ১৮৫৬ জন আধাসামরকি বাহিনীর সদস্য, তাদের ৯টি ট্যাংক, ২৫টি কামান ও ১০ হাজার ৭৭৩টি ছোট অস্ত্রসহ আত্মসর্মপণ করে।
নাটোরের বীর প্রতীক সোলায়মান আলী দাবি করেন, পাকিস্তান বাহিনী নাটোরের যেসব স্থানে গণহত্যা চালিয়েছিল সেসব স্থানে গণকবর ও শহীদ মিনার নির্মিত হলেও, সেগুলোর যথোপযুক্ত তত্বাবধায়ন নেই। শহীদদের স্মরণে এই স্থানগুলোতে সরকারিভাবে কোনও দিবস বা স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয় না। বিজয়ের ৪৭ বছর পূর্ণ হলেও,শহীদদের তালিকা তৈরি করা হয়নি। শহীদদের কেউ পায়নি কোনও স্বীকৃতি। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
নাটোরের মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার শেখ আলাউদ্দিন দাবি করেন, ‘যে স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ স্বাধীন করেছিলাম সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কেননা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবর্তে এখন অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ভাতা পাচ্ছে। নাটোর জেলা ও সদর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডে প্রবেশ করেছে অনেক রাজাকার। এতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারাও কষ্ট পাচ্ছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেখাতে হবে। শহীদদের স্বীকৃতি ও তালিকা তৈরি করতে হবে।