তথ্যমতে, দুই হাজার বছর আগে বর্তমানের ফিলিস্তিনের বেথেলহেমের এক গোশালায় মাতা মেরির গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন যিশু খ্রিস্ট। সেই থেকে প্রতিবছর ২৫ ডিসেম্বর সারা বিশ্বের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা মহাসমারোহে পালন করেন যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন। তিনি মানুষকে দেখিয়েছিলেন মুক্তি ও কল্যাণের পথ।
স্বজনদের সঙ্গে বড়দিনের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এরইমধ্যে পাবনায় গ্রামের বাড়িতে এসেছেন পেশাজীবী মানুষ। বড়দিন ঘিরে অতিথিদের আপ্যায়ন করতে বাড়ির গৃহিণীরা বাড়িঘর সাজানো ও আলোকসজ্জাসহ আয়োজন করেছেন পিঠাপুলির।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ও ভাদড়া গ্রামের মালতী কস্তা, প্রীতি কস্তা, রিনা রোজারিও, রবিতা গোমেজ ও মার্টিন গোমেজ জানান, বড়দিন উপলক্ষে আমাদের প্রত্যেকের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। সে কারণে আমরা সাধ্যমতো প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি সাজিয়েছি এবং আলোকসজ্জা করেছি। আল্পনা আঁকা হয়েছে বাড়ির আঙিনা ও দেয়ালসহ বিভিন্ন স্থানে। প্রভু যিশু খ্রিস্ট বেথেলহামের যে গোশালায় জন্মেছিলেন, তার আদলে প্রত্যেক বাড়িতে গোশালা স্থাপন ও সেটিকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
পাবনা ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সাধারণ সম্পাদক স্টিফেন সরকার জানান, বড়দিন ঘিরে সপ্তাহব্যাপী অনেক রকমের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনের মধ্যে রয়েছে নগর কীর্তন, বড়দিনের উপাসনা, কেক কাটা, পিঠা পর্ব, প্রীতিভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আশা করা হচ্ছে প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবারের বড়দিনের উৎসব উদযাপন করা যাবে।
চাটমোহরের মথুরাপুর ধর্মপল্লির পাল পুরোহিত ফাদার দীলিপ এস কস্তা বলেন, ‘আমাদের পাপ থেকে পরিত্রাণের এবং অন্তরের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ দেখানোর বাণী নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন যিশু খ্রিস্ট। জগতে শান্তি-ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং সবার মাঝে ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আহ্বানে পালিত হবে এবারের বড়দিন।’
পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম পিপিএম জানান, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বড়দিন উদযাপন করতে পারে সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব চার্চ ও গির্জায় পর্যাপ্ত পোশাকি পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। পাশাপাশি আগাম তথ্য পাওয়ার জন্য সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে। সব মিলিয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের তথ্যমতে, পাবনায় এবার ২১টি গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।