রাবিতে ছাত্রলীগ নেতাকে ছুরিকাঘাত, আটক ১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

পূর্ব শত্রুতার জেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক নেতার গলায় ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (২০ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একজনকে পিটিয়ে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রলীগ। আটককৃতকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আটককৃত ওই যুবকের নাম আরিফ ইশতিয়াক রোমেল। সে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলা এলাকার বাবলুর রশীদের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, রবিবার রাত ৮টার দিকে ইমতিয়াজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানোয়ার হোসেন সারোয়ার বঙ্গবন্ধু হলের পাশে দোকানে দাঁড়িয়েছিলেন। এসময় ৫-৭টি মোটরসাইকেল নিয়ে বহিরাগত কয়েকজন যুবক ওই দোকানের সামনে আসে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে একজন দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা ইমতিয়াজের গলায় আচমকা ছুরিকাঘাত করে দৌঁড় দেয়।

পরে পালানোর সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী হামলাকারীদের একজন আরিফকে আটক করে বঙ্গবন্ধু হলের অতিথি কক্ষে নিয়ে যায়। এসময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, হল প্রাধ্যক্ষ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলেও বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাদের সামনেই আরিফকে মারধর করেন। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাকর হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বয়ং ঘটনাস্থলে আসেন এবং আরিফকে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে হল থেকে বের করার মুহূর্তে আবারও ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আরিফের ওপর চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন। আরিফকে বাঁচাতে গিয়ে সহকারী প্রক্টর শিবলী ইসলাম, আবু সাঈদ মো. নাজমুল হায়দার, মতিহার জোনের ডিসি সাজিদ হোসেন ও মতিহার থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব আলম শরীরে আঘাত পান। পরে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আরিফকে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা আরিফকে আটক করে পুলিশে খবর দিই। এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মারধর করে। পরে পুলিশ এসে তাকে নিয়ে গেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘আরিফকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

ওসি মাহবুব আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসি। আমরা তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আরিফকে মারধর করে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আমিসহ কয়েকজন শিক্ষক আঘাত পাই। আরিফকে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। সুস্থ হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত জানার পর তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলায় বাধন নামের এক যুবককে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একনেতা মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেন। তবে সেই নেতার পরিচয় জানা যায়নি। এর কিছুক্ষণ পরই ইমতিয়াজকে ছুরিকাঘাতের এ ঘটনা ঘটে।