তানোরের বহরইলে এক সপ্তাহে ৬ জনের মৃত্যু, আতঙ্কে গ্রামবাসী

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে বিশেষজ্ঞ দলরাজশাহীর তানোর উপজেলার বহরইল গ্রামে গত এক সপ্তাহে অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত ছয়জন মারা গেছেন। এ ঘটনায় গ্রামীবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ায় সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।আবার অসুস্থ হয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কয়েকজন ভর্তি আছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ ফারুক গাফারী বিশেষজ্ঞ দলের নেতৃত্ব দেন। দলের অন্য সদস্যরা হলেন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক এস এম আবদুল কাদের, রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. সঞ্জিত কুমার সাহা, তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরী গোলাম রাব্বী, সহকারী কমিশনার (ভূমি)আব্দুল্যাহ আল মামুন, তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কমর্তকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. রোজিয়ারা খাতুন। এছাড়াও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

বহরইলের আতঙ্কিত গ্রামবাসীবিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে দেখা করতে আসা বহরইল সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে অজ্ঞাত রোগে সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। এ অবস্থা দেখে আমিও অসুস্থ হয়ে পড়েছি। মনে হচ্ছে যে কোনও সময় বুকের ব্যথায় আমিও মারা যাবো।’

প্রসঙ্গত গত এক সপ্তাহে মারা যাওয়া ছয়জন হলো, নুরী বিবি (৬৫), জোনাব আলী (৪৫), চারদিনের এক নবজতাক শিশু, সমসের আলী (৬৫), রাহেলা বেগম (৪৮) ও ইমাম আলী (৩৮)।

জোনাব আলীর স্ত্রী তাজকিয়া বলেন, ‘গত মাসের ২৭ তারিখ রাতে আমার স্বামী ঘুম থেকে উঠে বলেন বুকে ব্যথ্যা করছে। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি বুকের ব্যথ্যায় কাতরাতে কাতরাতে ঢলে পড়েন। পরে তিনি মারা যান।’

গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলছেন বিশেষজ্ঞ দলরাহেলার মেয়ে আশা বলেন,‘আমার মা সুস্থ ছিলেন। হঠাৎ বুক জ্বালা ও  শরীরে ব্যথা করছে বলে জানান। একটু পরে তিনি কাঁপতে কাঁপতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার একটু পর তার শরীর হলুদ, মুখ কালো হয়ে যায়। গত এক সপ্তাহে আমাদের গ্রামে যে ছয়জন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে পাঁচজন একইভাবে মারা গেছেন।’

বহরইল গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল লতিব বলেন, ‘সেদিন পল্লী চিকিৎসক বাবুর শরীর কাঁপুনি দিয়ে ওঠার পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীরা তাকে বাড়ি নিয়ে আসে। রাতে তার অবস্থার অবনতি হলে ভোরে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান। গত কয়েকদিনে এই গ্রামের পাঁচজন এইভাবে মারা গেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজনরাজশাহী জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের বলেন, ‘এটা স্বাভাবিক মৃত্যু। এনিয়ে ভয় বা আতঙ্কের কিছু নেই। এক সপ্তাহে ছয়জন মারা যেতেই পারে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী বেশি ভাবছে। এটা এমন কোনও অজ্ঞাত রোগ নয়। তারপরও স্বাস্থ্য অধিদফতরে রোগতত্ত্ব,রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা কয়েকদিন এ এলাকায় থাকবেন। এলাকাবাসীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন।’

এ ব্যাপারে ঢাকা থেকে আসা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক দলে প্রধান আব্দুল্লাহ ফারুক গাফারী বলেন, এ গ্রামে যারা অসুস্থতা অনুভব করছে। তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহসহ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছি। রক্ত পরীক্ষার করে রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ দেরি হবে। এরপর জানা যাবে মৃত্যুর কারণ কী।

তানোর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সরাজশাহী জেলার সিভিল সার্জন ডা. সঞ্জিত কুমার সাহা বলেন,‘ ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বহরইল গ্রামে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছেন এবং মৃত্যুর কারণ জানার চেষ্টা করছেন। এর আগে শুক্রবার পাঁচজন চিকিৎসকের একটি দল ওই গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। গ্রামবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে আমার মনে হচ্ছে এটা নিছক গুজব এছাড়া আর কিছু না।’