টাকার বিনিময়ে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে নাটোরে দুই ভুয়া পরীক্ষার্থীকে জেলে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে প্রশ্নফাঁস চক্রের একজনকে গ্রেফতার করার পর তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। সোমবার নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় এই ঘটনা ঘটে।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম এবং নাটোর র্যাব অফিসের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার এএসপি আনোয়ার হোসেন সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম জানান, স্থানীয় রোজী মোজাম্মেল কলেজ কেন্দ্রে বিলচলন জোহা কলেজের শিক্ষার্থী জিল্লু শেখের পরিবর্তে পরীক্ষা দিচ্ছিল নাটোর সদর উপজেলার বলারিপাড়া এলাকার মশিউর রহমানের ছেলে শেখ গোলাম মোস্তফা (২২) এবং একই কলেজের শিক্ষার্থী হারুনার রশিদের পরিবর্তে একই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছিল নাটোর সদর উপজেলার একডালা এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে পারভেজ মোশাররফ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান তাদের আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উভয়কে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, পাবলিক পরীক্ষা আইনের ৩ (খ) ধারায় এই দন্ড দেওয়া হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, আটক দু’জনই ছাত্র। রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক ছাত্র আল আমিন ইউসুফের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে ভুয়া পরীক্ষা দিচ্ছিল।
অপরদিকে নাটোর র্যাব অফিসের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার এএসপি আনোয়ার হোসেন জানান, সোমবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজশাহী র্যাব অফিসের কোম্পানি কমান্ডার মাইনুল ইসলাম সঙ্গীয় র্যাব সদস্যদের নিয়ে গুরুদাসপুর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এসময় একই গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে রিপন আলীকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়।পরে তার কাছে থাকা ৫টি সিমকার্ড ও ৫টি স্ক্রিনশর্টসহ ৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। সোমবার বিকেলে তার বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।