মুক্তিযোদ্ধা সেলিম হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে ঈশ্বরদীতে আধাবেলা হরতাল

হরতালের সমর্থনে সমাবেশপাবনার ঈশ্বরদীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে ঈশ্বরদীতে আধাবেলা হরতাল পালিত হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা জনতার ব্যানারে ডাকা ওই হরতাল সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে। এ সময় হরতাল পালনকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত, মদদ দাতা, অর্থদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানান।

স্থানীয়রা জানান, হরতালের সমর্থনে ঈশ্বরদী রেলগেটসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন হরতাল পালনকারীরা। এ সময় ঈশ্বরদী পৌর শহরের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। সেইসঙ্গে দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচলও বন্ধ ছিল। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

হরতালের সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিলএর আগে গত ২৪ জুলাই বুধবার ঈশ্বরদীর মুক্তিযোদ্ধা-জনতার আয়োজনে পুরাতন বাস স্ট্যান্ডের মাহবুব আহমেদ খান স্মৃতি মঞ্চে অনুষ্ঠিত সভায় এই হরতালের আহ্বান করা হয়।

রূপপুর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ও পাকশী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম জানান, সেলিম হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবিতে ইতোমধ্যে রেলপথ অবরোধ, বিক্ষোভ, জাতীয় ও স্থানীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন, পথসভা, জনসভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার হরতাল পালিত হলো।

হরতালে বন্ধ দোকানপাটহত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে সোমবার সকালে রেলগেট গোলচত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার গোলাম মুস্তফা চান্না মণ্ডল, আব্দুল খালেক, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথা, পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আতিয়া ফেরদৌস কাকলী, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ উদ্দিন বিশ্বাস, সাবেক ছাত্রনেতা মুরাদ মালিথা, ফজলুর রহমান ফান্টু ও পাকশী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সেলিমকে নিজ বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়।