কোরবানির ঈদের মাত্র এক সপ্তাহ আগে সিরাজগঞ্জের ব্যস্ততম দুটি মহাসড়ক মেরামতের জন্য খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করছে সওজ। সারাবছর এ রাস্তাগুলো নিয়ে কোনও চিন্তা না থাকলেও শেষ মুহূর্তে সওজের লোকজন রাস্তা মেরামত নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের ভিড় এখনও শুরু না হলেও উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকা, সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগামের পশুবাহী ট্রাকের চাপ বেশ বেড়েছে। এ মুহূর্তে সিরাজগঞ্জ মহাসড়কে এক্সক্যাভেটর বা ভেকু দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি ও মেরামত কাজের জন্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ঈদের আগে মেরামত বা সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করা সম্ভব না হলে উত্তরাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ মহাবিপাকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিন সোমবার (৫ আগস্ট) দিনভর বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ে হাটিকুমরুল মোড়ে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও মেরামতের কাজ করতে দেখা যায়। এছাড়া হাটিকুমরুল মোড়ের পশ্চিমে নাটোর-বনপাড়া মহাসড়কের খালকুলা এলাকার দুটি অংশের খানাখন্দ অস্থায়ীভাবে মেরামত করতেও দেখা যায়। এ কারণে যানবাহনগুলো থেমে থেমে চলাচল করছিল।
স্থানীয়রা জানান, ঈদ এলেই রাস্তাগুলো দায়সারাভাবে মেরামত করে সওজ। গত রোজার ঈদের আগেও এই মহাসড়কগুলো মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু মেরামতের কিছুদিন যেতে না যেতেই রাস্তাগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।
এ ব্যাপারে সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘সারাবছরই সড়ক দুটি মেরামত করা হয়। মাছ পরিবহনকারী ট্রাক ও যানবাহনের কারণে এসব খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। মাছের ট্রাকের পানি পড়ে ও ভারী যানবাহনের চাকার চাপে রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে রোদ ও বৃষ্টিতে বিটুমিন এবং পাথরের স্তর উঠে যায়। গত রোজার ঈদের আগে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় করে মহাসড়ক দুটির খানাখন্দ মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু দু’মাসেই একই অবস্থা হয়ে গেছে।’
গত শনিবার রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি একেএম হাফিজ আক্তারসহ সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নাটোর, পাবনা ও টাঙ্গাইলের হাইওয়ে পুলিশ রাস্তার কাজ পরিদর্শন করেন। একই দিন বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সওজ পাবনা অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুদ্দিন আহম্মেদ।
রবিবার সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘যত কষ্টই হোক না কেন আগামী (৭ আগস্ট) দুই দিনের মধ্যে রাস্তার মেরামত কাজ শেষ করা হবে।’