‘বাংলাদেশের যেকোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষক নিয়োগে এখন অনেক কম যোগ্যতা লাগে। অথচ এটা অনেক ওপরে ছিল। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে—যেখানে শিক্ষক পাওয়া যায় না, সেখানেও আমাদের চেয়েও বেশি যোগ্যতা লাগে। দ্বিতীয় মেয়াদে জয়েন করার সঙ্গে সঙ্গে উপাচার্য কেন শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা নামিয়ে নিয়ে এলেন? কন্যা ও জামাতাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য। তার কন্যা স্নাতকোত্তরে ২২তম হয়েছিলেন। তার জামাতা স্নাতকোত্তরে ৬৩ বা ৬৭তম হয়েছেন; মাস্টার্সে তিনি ৩.৫-ও পাননি। তাদের চাকরি দিতে যোগ্যতা কমিয়েছেন উপাচার্য।’
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাবি শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের সামনে ‘দুর্নীতিবাজ’ প্রশাসনের অপসারণের দাবিতে র্যালি ও মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশ। এসময় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী ওপরের কথাগুলো বলেন।
বাংলা বিভাগের এ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আরও বলেন, “কয়েকদিন আগে আমি ঢাকা গিয়েছিলাম। এক বন্ধু আমাকে জিজ্ঞেস করলো—তোদের ওখানে প্রফেসর নিয়োগে রেট কত, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে রেট কত? সেদিন আমি লজ্জায় মাথা নত করেছিলাম। কারণ আমি জানি যে, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব চলছে। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ—এদের নেতৃত্বে যে প্রশাসন চলছে, সেই প্রশাসন অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দিচ্ছে। উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপ তারই প্রমাণ। এতে তিনি বলছেন, ‘তুমি কত টাকা দিতে প্রস্তুত আছো?’ এরপরেও তিনি বহাল তবিয়তে প্রশাসনে আছেন।”
মানববন্ধনে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মু. আলী রেজার সঞ্চালনায় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী এবং শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বক্তব্য রাখেন। এ সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এস এম এক্রাম উল্যাহ, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শাহরিয়ার জামান, প্রাণ-রসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ, মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুজিবুল হক আজাদ খান, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে শিক্ষকেরা ক্যাম্পাসে প্রতিবাদী র্যালি করেন।