নাটোরের বিভিন্ন উপজেলায় বোরো চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তারা চারা উত্তোলন ও বপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বীজতলা হওয়ায় এবার উৎপাদন বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে কৃষি বিভাগ। শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় ও কুয়াশায় বেশ কিছু চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বোরো চাষে খরচ বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এ ব্যাপারে কৃষি বিভাগ বলছে, ‘আবহাওয়া ভালো হয়ে গেলে অনেক চারাই আবার রিকভার হবে। এছাড়াও ডিএপি সারের দাম কমায় গড়ে কৃষকের খরচ কম হবে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার জানান, গত মৌসুমে নাটোরে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ হাজার ৫শ’ হেক্টর আর উৎপাদন হয়েছে ৬১ হাজার ৪৩৫ হেক্টর। ওই ধান থেকে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৩১৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে। চলমান বোরো মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ১২৭ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে। এরমধ্যে উপসি, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেলায় উপসি জাতের বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ১ হেক্টর। সদর উপজেলায় ১৩৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয়েছে ১৪৪ হেক্টর, নলডাঙ্গায় লক্ষ্যমাত্রা ৩৯৫ হেক্টর হলেও অর্জিত হয়েছে ৪২০ হেক্টর, সিংড়ায় লক্ষ্যমাত্রা ১৭শ’ হেক্টর নির্ধারিত হলেও অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ৮৬০ হেক্টর, গুরুদাসপুরে লক্ষ্যমাত্রা ২০৩ হেক্টর হলেও অর্জন হয়েছে ২৩০ হেক্টর, বড়াইগ্রামে লক্ষ্যমাত্রা ২২৮ হেক্টর হলেও অর্জন হয়েছে ২৪৪ হেক্টর, লালপুরে লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হেক্টর কিন্তু অর্জিত হয়েছে ৬৩ হেক্টর আর বাগাতিপাড়ায় লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ হেক্টর হলেও অর্জিত হয়েছে ৪০ হেক্টর। জেলার মোট ৪০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয়েছে ১১৮ হেক্টর। এরমধ্যে সদর উপজেলায় অর্জন হয়েছে ১ হেক্টর জমিতে, নলডাঙ্গা উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ৪ হেক্টর থাকলেও অর্জন হয়েছে ৫০ হেক্টর, সিংড়ায় লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হেক্টর তবে এখন পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ১৫ হেক্টর, গুরুদাসপুরে লক্ষ্যমাত্রা ২ হেক্টর হলেও অর্জন হয়েছে ৫ হেক্টর, বড়াইগ্রামে লক্ষ্যমাত্রা ২ হেক্টর হলেও অর্জন হয়েছে ৪২ হেক্টর, তবে কোনও লক্ষ্যমাত্রা না থাকলেও লালপুরে অর্জন হয়েছে ৪ হেক্টর এবং বাগাতিপাড়ায় এখন পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ১ হেক্টর। অপরদিকে স্থানীয় জাতের ক্ষেত্রে কোনও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ না হলেও এখন পর্যন্ত নলডাঙ্গায় ৫ হেক্টর এবং লালপুরে ৩ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিভিন্ন বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ শুরু করেছেন কৃষকরা। সরেজমিন জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গিয়ে কৃষকদের ধানের চারা উত্তোলন আর রোপণে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। কৃষকদের অভিযোগ অনেক চারার গোড়া পচে গেছে। এছাড়াও কিছু কিছু চারা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে।
সদর উপজেলার ভাটোদাঁড়া গ্রামের কৃষক নবী জানান, গত বছর ধানের চারা রোপনের জন্য শ্রমিকদের প্রতিদিন ৩০০-৩৫০ টাকা হারে দেওয়া হলেও এবছর দিতে হচ্ছে সর্বনিম্ন ৪শ’ টাকা। এতে তাদের খরচও বেশি হচ্ছে।
নলডাঙ্গা এলাকার কৃষক রানা জানান, তিনি প্রায় ১০ কাঠা জমিতে চারা রোপণ করেছিলেন। অনেক চারার গোড়া পচে গেছে। অনেক চারা আবার বিবর্ণ হয়ে গেছে। অবশিষ্ট চারা দিয়ে তিনি জমি রোপণে সমস্যায় পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন।
সিংড়ার উত্তর দমদমা এলাকার কৃষক আকতার জানান, বীচতলায় অনেক চারাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া শ্রমিকদের মজুরি বেশি হওয়ায় এবার ধান চাষে খরচ বেশি হচ্ছে।
এব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার জানান, চারা পচে নষ্ট হওয়ার বিষয়টি কেউ তাদের জানায়নি। তবে অতি শীত আর কুয়াশায় অনেক চারা লাল হয়ে গেছে। আবহাওয়া ভালো হলে ওগুলো পুণরায় রিকভার হবে। এবার শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় ধান চাষে কৃষকদের খরচ বাড়তে পারে।
সরকার এবছর ডিএপি সারের দাম কমিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে গড়ে কৃষকের খরচ খুব বেশি হবে না।’
এক প্রশ্নের জবাবে সুব্রত কুমার জানান, জেলায় এবারে যে চারা রয়েছে তাতে গত বছরের তুলনায় এবারে জেলায় ধান উৎপাদনের হাড় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।