রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলায় ৫৯২ হেক্টর জমিতে ৮ লাখ ৮৮ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। গাছপ্রতি গড় উৎপাদন ৭ দশমিক ৭ কেজি হিসাবে ধরলেও মোট গুড় উৎপাদন হবে ৬ হাজার ৮৩৫ টন। গড়ে কেজিপ্রতি গুড়ের দাম ৬০ টাকা ধরলেও এ মৌসুমে ৪১ কোটি টাকার গুড়ের বাণিজ্য হবে। এই পেশার সঙ্গে জেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ জড়িত।
চারঘাট উপজেলার চাষি ইয়াকুব মণ্ডল বলেন, ‘বাড়িতে ৭০টি গাছ রয়েছে। সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫ কেজি গুড় উৎপাদন হয়।’
পুঠিয়ার বানেশ্বর এলাকার চাষি তৌফিক এলাহী বলেন, ‘এবছর প্রশাসনের ব্যাপক নজরদারি ছিল। ফলে ভেজাল গুড় উৎপাদন হচ্ছে না। কিন্তু দাম কিছুটা কম।’
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা জানান, চলতি শীত মৌসুমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভেজাল গুড় তৈরি না করার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। এরপরও কিছু ব্যক্তি অধিক মুনাফার জন্য খেজুর রসের সঙ্গে চিনি, আটা, হাইড্রোস, ফিটকিরি, সোডা, চুন, নারিকেলের তেল, রং মিশিয়ে গুড় তৈরি করে। তাদের ধরতে পারলে হাতেনাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, ‘জেলার বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া ও দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকায় খেজুর গুড় বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হচ্ছে। আমরা বাণিজ্যিকভাবে খেজুর গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহ দিচ্ছি। এখন রাজশাহীর গুড় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন এলাকায় রফতানি হচ্ছে। এতে করে এই এলাকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে।’