চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিকাশ ও মোবাইল ব্যাংকিং-এ হিসাব খুলে দেওয়ার নামে অসহায় মানুষের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তখন কয়েকজনকে টাকাগুলো ফেরত দিতে বাধ্য হন চেয়ারম্যান।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে নগদ এককালীন আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এসব দরিদ্রদের তালিকা তৈরি করছেন শিবগঞ্জের ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান এসএম রূপম। যেসব মানুষের ব্যাংক হিসাব নেই, তাদের হিসাব খুলে দিতে দাড়িদহ বন্দরের রাহি টেলিকমের মালিক রায়হানকে দায়িত্ব দেন তিনি। চেরম্যান প্রতিজনকে ব্যাংক হিসাব খোলা ও সিমের দাম হিসেবে ২২০ টাকা এবং ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স হিসেবে ২৮০ টাকাসহ মোট ৫০০ টাকা করে আদায় করতে বলেন রায়হানকে। এ সময় ১৬৫ জন দুস্থ ব্যক্তি ৫০০ টাকা করে দিয়ে রায়হানের দোকান থেকে ব্যাংক হিসাব খোলেন।
ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের বালুপাড়া গ্রামের মিনা, চাঁদনগর গ্রামের লাইলি বেগম, বুম্বপাড়ার মঞ্জুরি, বেরি, নিয়ামতপুর গ্রামের আঞ্জুয়ারা প্রমুখ দুস্থ নারী জানান, চেয়ারম্যান রূপম তাদের ওই দোকানে ৫০০ টাকা করে জমা দিয়ে ব্যাংক হিসাব খুলতে বলেছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আড়াই হাজার টাকা উপহার পেতে ধার-দেনা করে ৫০০ টাকা দিয়ে হিসাব খুলেছেন তারা।
এদিকে, চেয়ারম্যানের এ টাকা আদায়ের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, শনিবার (১৬ মে) দাড়িদহ বন্দরের বিকাশ এজেন্ট রাহি টেলিকমের মালিক রায়হানকে থানায় ডেকে
এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। পরে চেয়ারম্যান ১৬৫ জনের মধ্যে ১১২ জনকে টাকা ফেরত দিয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, বিষয়টি জানার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মুজাহিদকে প্রধান এবং মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক চৌধুরী ও পিআইও জিন্দার আলীকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।
পুলিশ ওই বিকাশ এজেন্টকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান রূপম ফোন না ধরায় অনেক চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম রূপমের ভাই মশিউর রহমানের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়। দুদকের বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম তার তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহনাজ বেগম চাল বিক্রিতে অনিয়ম ও পাচারের ঘটনা ফাঁস করায় তাকে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন মারধর করেন। পরে রূপম চেয়ারম্যান পরিষদে ওই নারী ইউপি সদস্যের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।