সরকারি সহায়তার তালিকায় বিত্তবানদের নাম!

 

পাবনাপাবনার চাটমোহরে করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ দেওয়া ১০ টাকা কেজি দরের চাল এবং জনপ্রতি ২৫শ' টাকার অর্থ সহায়তার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে তালিকায় হতদরিদ্র, দিনমজুর ও দুস্থদের চেয়ে স্বাবলম্বী, বিত্তবান এবং মেম্বার-কাউন্সিলরদের আত্মীয়-স্বজনদের নাম বেশি পাওয়া গেছে।

এই সহয়তার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য এবং পৌরসভার কাউন্সিলরদের ওপরে তালিকা করার দায়িত্ব দেয় উপজেলা প্রশাসন। তালিকা একাধিকবার সংশোধন করে গত ১৮ মে পুনরায় প্রকাশ করা হয়। তবে চাটমোহর পৌর সদরসহ ইউনিয়নের প্রায় আট হাজার জনের নামের সহায়তার তালিকায় বড় ধরনের অনিয়মের সন্ধান পাওয়া গেছে। দেখা গেছে উপজলার প্রায় সব ইউনিয়নেই এই অনিয়ম হয়েছে। এতে করে এলাকার দুস্থ, দিনমজুর, হতদরিদ্ররা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানান স্থানীয়রা। 

পৌর এলাকার তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে,  শুধু চাটমোহর পৌর সদরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালিকায় যে ৪২৮ জনরে নাম রয়েছে, তাদের মধ্যে চাটমোহরের আর কে জুয়েলার্সের মালিক রতন ও কানু কর্মকার, পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ব্যবসায়ী কামরুল হাসান, চাটমোহর টেকনিক্যাল কলেজের প্রভাষক কাজী শরফিুল ইসলাম, চাটমোহর ব্যাগ হাউজের মালিক নারায়ণ দত্তসহ আরও অনেক বৃত্তবানের নাম রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যাদের নাম তালিকায় রাখা হয়েছে—তার মধ্যে দেড়শতাধিক ব্যক্তির  মাসিক আয় ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। স্থায়ী সম্পদের পরমিাণ দুই থেকে ১০ কোটি টাকা। এ ছাড়া একশ' জনের আয় মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

চাটমোহর পৌর সভার মেয়র মির্জা রেজাউল করিম দুলাল বলেন, 'তালিকা করেছেন কাউন্সিলররা। তারা যদি নিজেদের নাম, আত্মীয়-স্বজনদের নাম দিয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেটা মেনে নেওয়া কষ্টকর।'

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চাটমোহর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার কামরুল হাসান মিন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে বলনে, 'আমি ভারতীয় ভিসা সুবিধার্থে ১০ টাকা রেশন কার্ডে নাম দিই। পরে কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ সহায়তার তালিকায় নাম এসেছে, তা জানি না। আমার নাম প্রত্যাহার করতে উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দরখাস্ত করেছি।’

চাটমোহর উপজলো নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মাদ রায়হান বলেন, 'ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ও পৌরসভার কাউন্সিলররা যে তালিকা দিয়েছে, সেটি সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠিয়েছি। এখানে বিত্তবান জনপ্রতিনিধির নাম থাকলে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’