বগুড়ার সোনাতলায় যমুনা ও বাঙালি নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাঁচ সহস্রাধিক পরিবারের অন্তত ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেকেই তাদের বাড়িঘর ভেঙে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। যারা আছেন তারা বিপাকে নিজেদের ও গবাদি পশুর খাদ্য নিয়ে।
শনিবার (১৮ জুলাই) উপজেলার তেকানী চুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার প্রায় দেড় হাজার মানুষ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। বন্যা এবং করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন নিম্নআয়ের মানুষরা পরিবার-পরিজন নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। নলক‚পগুলো ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট।
সোনাতলা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় আউশ ধান, পাট, বীজতলা, শাকসবজি ও মরিচের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
প্রাণি সম্পদ অধিদফতর সূত্র জানায়, কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে চরাঞ্চলের মানুষ গরু ও ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে আছেন। একদিকে খাদ্য সংকট অন্যদিকে গবাদি পশু রাখা নিয়ে দিশেহারা তারা।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ ও শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার উপজেলার মধুপুর, তেকানী চুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের ৭৮৫ জন মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সোনাতলা উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মিনহাদুজ্জামান লীটন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুর আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান প্রমুখ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, চলতি বন্যায় এ পর্যন্ত ৮০ মেট্রিক টন চাল ও দুই লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।