করোনা প্রতিরোধে ভ্যাকসিন বা টিকা নেওয়ার প্রথম দিনেই নাটোরে অপচয় হয়েছে ৫টি ভায়াল। এক ভায়ালে ১০ জন করে টিকা নেওয়ার কথা থাকলেও তা পূরণ না হওয়ায় ওই ভায়ালগুলো নষ্ট হয়। মূলত রেজিস্ট্রেশন করেও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত না হওয়ায় এই সমস্যার সৃৃষ্টি হয়। ফলে প্রথম দিনে পুরো জেলায় মোট ২১০ জন এই টিকা নিয়েছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ টিকা নিয়েছেন সিংড়া উপজেলায়, আর সবচেয়ে কম মানুষ টিকা নিয়েছেন বাগাতিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
সিভিল সার্জন ডাক্তার মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিভিল সার্জন ডাক্তার মিজানুর রহমান জানান, রবিবার সকাল সাড়ে দশটা থেকে বিকেল ৩ টা অবধি জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা এলাকায় টিকা দেওয়া হয়। প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রথমদিন নাটোর সদর হাসপাতালে টিকা নেন ২৭ জন,বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়েছেন ৪ জন,দয়ারামপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকা কেন্দ্রে ৪০ জন, লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ জন, বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪১ জন, গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ জন ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা নিয়েছেন ৬৬ জন।
এক প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, এক ভায়ালে ১০ জনকে টিকা দেওয়ার কথা। কিন্তু সংখ্যা না মেলায় সদর হাসপাতাল,বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি করে ভায়াল ওয়াস্ট (নষ্ট) হয়েছে। কেননা ভায়াল ওপেন করার ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত তা ব্যবহার করা যায়।
এক প্রশ্নের জবাবে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ফরিদুজ্জামান জানান, তিনি নিজেও টিকা নিয়েছেন। মোট ৫১ জন নিবন্ধিত থাকলেও তারা না আসায় এমন কম সংখ্যক মানুষ টিকা পেয়েছেন। তবে ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বাড়বে এমন আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সরকারের টাকায় কেনা দামি এবং এই মুহূর্তে দুষ্পাপ্র্য এই টিকা ব্যবহারে এরপর থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইন মেনে ১০ জনের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পরেই ভায়াল খোলার ব্যাপারে টিকা কেন্দ্রের দায়িত্বরতদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।