যৌন হয়রানির শিকার সেই নার্সের বদলি আদেশ বাতিল

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করা সেই নার্সের বদলি আদেশ বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। বদলি আদেশের পরের দিন তা বাতিল করেছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার ও পরিচালক (প্রশাসন ও শিক্ষা) মোহাম্মদ আবদুল হাইয়ের স্বাক্ষরিত আদেশে এই নার্সকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। ২৪ মার্চ আবশ্যিকভাবে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়। এরইমধ্যে শুক্রবার (১৯ মার্চ) এই নার্সের বদলি আদেশ বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ।

এমন বদলিকে শাস্তিমূলক হিসেবে দেখছেন যৌন হয়রানির শিকার ওই নার্স। ভুক্তভোগী নার্স বলেন, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বদলি আদেশ ও বাতিলের আদেশ জেনেছি।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কারণে তাকে এই শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমার বিচার চাওয়াটা কি অপরাধ? এরপর থেকে রামেক হাসপাতালের আর কোনও নার্স যৌন হয়রানির শিকার হলেও হয়তো মুখ খুলতে সাহস পাবে না।

তিনি জানান, বদলি আদেশ বাতিল হওয়াতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। তবে ঘটনার সঠিক বিচারের স্বার্থে তিনি দমে যাবেন না। তাকে যে যৌন হয়রানি করেছে তার বিরুদ্ধে তিনি আইনের আশ্রয় নেবেন।

গত ১৩ মে  নার্সের চাকরি পেয়ে রামেক হাসপাতালেই যোগ দেন ওই নার্স। এরপর তিনি শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১৮ জানুয়ারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) দায়িত্বরত চিকিৎসক মামুন-অর-রহমান তাকে যৌন হয়রানি করেন। পরদিনও একই কাণ্ড ঘটান এই চিকিৎসক। ঘটনাটি গণমাধ্যমে আসলে ২০ জানুয়ারি ডা. মামুনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতাল নার্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহাদাতুন নূর লাকি জানান, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু সেটা হয়নি। বরং যখন ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন সেসময় এটিকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী নার্সের বদলি আদেশ বাতিল হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শাহাদাতুন নূর লাকি জানান, সুষ্ঠু বিচার আদায়ে ভুক্তভোগী নার্সকে তারা সহযোগিতা করে যাবেন।

এ বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও শিক্ষা) মোহাম্মদ আবদুল হাইয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম মামুন-অর-রহমান। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানেসথেসিয়ার ওপর কোর্স করছিলেন এবং কোর্সের অংশ হিসেবে রামেক হাসপাতালে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ডা. মামুন চট্টগ্রামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরি করছেন। ছুটি নিয়ে তিনি রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অ্যানেসথেসিয়া কোর্স করছিলেন। রামেকে অস্থায়ী অব্যাহতির আগ পর্যন্ত তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) প্রশিক্ষণের কাজ করছিলেন। সেখানেই যৌন হয়রানির ঘটনাটি ঘটিয়েছেন গত ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি। পরদিন তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর গঠন করা হয়েছিল পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। তদন্ত শেষে রামেক হাসপাতালের প্রশিক্ষণ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া অ্যানসথেসিয়ার কোর্স থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সুপারিশ করা হয়েছিলো।